নেতাদের বেডরুমে শুরু হয় মহিলাদের রাজনৈতিক কেরিয়ার, তা না হলে রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারেন না বেশিরভাগ মহিলা রাজনীতিবিদ, এই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি অধিকাংশ পুরুষ রাজনীতিবিদকে 'শকুন' বলে উল্লেখ করেন।
পাপ্পু বলেন, "গার্হস্থ্য হিংসা কারা করেন? মহিলাদের দিকে কুনজর কারা দেন? আমেরিকা থেকে ভারত— সব জায়গাতেই এই কাজ করেন রাজনীতিবিদরাই। প্রায় প্রতিদিনই রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসে। তাঁর আরও অভিযোগ, মহিলাদের শোষণ করা এখন ‘সংস্কৃতি’তে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের সমর্থনেই পূর্ণিয়া থেকে জিতেছিলেন পাপ্পু। তাই তাঁর এই মন্তব্যের জন্য কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। তিনি বলেন, এই মন্তব্য বিরোধী শিবিরের ‘নারীবিরোধী মানসিকতা’র পরিচয় দেয়। তাঁর কথায়, “এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়, নারীবিদ্বেষী এবং অশালীন মন্তব্য।” পুনাওয়ালা প্রশ্ন তোলেন, নারী অধিকার নিয়ে সরব যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক সময়, লড়কি হুঁ, লড় সক্তি হুঁ স্লোগান তুলেছিলেন তিনি কেন এই বিষয়ে নীরব? একইসঙ্গে তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পাপ্পু যাদবের ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন।
বিজেপি নেত্রী চারু প্রজ্ঞা এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এই মন্তব্য পাপ্পু যাদবের মানসিকতার প্রতিফলন। তাঁর মতে, “এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে বারবার সাংসদ নির্বাচিত হন, সেটাই দুঃখজনক।” তিনি পাপ্পুকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি যাতে নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন সেই দাবি জানান। বিতর্ক বাড়তেই বিহার রাজ্য মহিলা কমিশন পাপ্পু যাদবকে নোটিস পাঠিয়েছে।
