ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সাক্ষরের আগে চুপি চুপি চুক্তিপত্রে বেশকিছু রদবদল আমেরিকার। চুক্তিপত্রে বেশ কিছু শব্দ ও শর্ত বদল করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন দুই দেশের বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, মূল চুক্তিপত্রে লেখা ছিল, ভারত আমেরিকার থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য কিনতে 'প্রতিশ্রুতিবদ্ধ'। এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শব্দটি বদলে করা হয়েছে 'কিনতে ইচ্ছুক'। দ্বিতীয় বদল আনা হয়েছে কৃষিজ পণ্য কেনার শর্তে।
দীর্ঘ টানাপোড়েন ও শুল্ক যুদ্ধ কাটিয়ে সম্প্রতি সমঝোতার জায়গায় এসেছে ভারত ও আমেরিকা। শীঘ্রই হতে চলেছে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি। তবে চুক্তি সই হওয়ার আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের তরফে এক রিপোর্ট সামনে এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্তে দুটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যা ভারতের জন্য স্বস্তিদায়ক। শব্দের পরিবর্তনের পাশাপাশি দ্বিতীয় পরিবর্তন এসেছে শর্তে। চুক্তিতে বাণিজ্য পণ্যের তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে কিছু কৃষিজ পণ্য। আরও স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট কিছু ডাল। আগের খসড়া চুক্তিপত্রে উল্লেখ ছিল ভারত মার্কিন পণ্যের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করবে বা শুল্ক কমাবে। এই তালিকায় ছিল ড্রাইড ডিস্টিলার্স গ্রেইনস, রেড সরগাম, ট্রি নাটস, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, নির্দিষ্ট ডাল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিটস। তবে সংশোধিত সংস্করণে নির্দিষ্ট ডালের উল্লেখ নেই।
মূল চুক্তিপত্রে লেখা ছিল, ভারত আমেরিকার থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য কিনতে 'প্রতিশ্রুতিবদ্ধ'। এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শব্দটি বদলে করা হয়েছে 'কিনতে ইচ্ছুক'।
নয়া সংস্করণে বদলে ফেলা হয়েছে ডিজিটাল পরিষেবা করের ভাষাও। সেখানে বেশ কিছু লাইন বাদ দিয়ে বলা হয়েছে, ভারত বৈষম্যমূলক বা জটিল বিধিনিষেধ দূর করতে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা নিয়ে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির এই সংশোধন নিশ্চিতভাবে ভারতের জন্য লাভজনক। প্রথমত, পূর্ববর্তী খসড়া অনুযায়ী ভারত আমেরিকার থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য কিনতে বাধ্য ছিল। এখন নয়া শর্তে ভারত আর বাধ্য নয়। অন্যদিকে, মার্কিন নিঃশুল্ক কৃষিপণ্যে ডাল জাতীয় পণ্যকে বাদ দেওয়ার অর্থ ভারত এই পণ্যগুলিতে নিজের ইচ্ছেমতো শুল্ক চাপাতে পারবে।
