স্কুলে পড়ুয়াকে শাসন প্রয়োজনে গায়ে হাত তোলা কি অপরাধ? সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বহুল চর্চিত এই প্রশ্নের উত্তর দিল কেরালা হাই কোর্ট। সম্প্রতি এই মামলায় আদালতের তরফে স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের শাসন করতে শিক্ষক যদি সীমিত বেত্রাঘাত করে তবে তা কোনও ভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। স্কুলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে স্টাফরুমে এক পড়ুয়াকে বেত্রাঘাত করেছিলেন ৩৬ বছরের এক শিক্ষক। ব্যাথা অনুভব করার পড়ুয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। যদিও মেডিক্যাল রিপোর্টে শরীরে আঘাতের তেমন কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার তিন দিন পর ১৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৮(১) ও কিশোর ন্যায় সংহিতার ৭৫ ধারায়। পালটা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন শিক্ষক। এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলার তদন্ত বন্ধ করার আর্জি জানান।
১৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৮(১) ও কিশোর ন্যায় সংহিতার ৭৫ ধারায়। পালটা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন শিক্ষক।
এই মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি সি প্রতীপ কুমার বলেন, বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান যাতে তারা প্রকৃত শিক্ষা পায় এবং নিয়মানুবর্তীতা শেখে। ফলে প্রয়োজনে কোনও শিক্ষক যদি ভালো উদ্দেশে এবং পড়ুয়াকে সংশোধনের উদ্দেশে বেত্রাঘাত করেন তাহলে তা বিদ্বেষ বা নিষ্ঠুরতা নয়। আদালত জানিয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৮(১)-এর অধীনে বেতকে বিপজ্জনক অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। কারণ এটি প্রাণঘাতী নয় এবং এক্ষেত্রে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। পাশাপাশি সৎ উদ্দেশেই এই পদক্ষেপ করেছিলেন শিক্ষক। ফলে এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না।
আদালত জোর দিয়ে জানিয়েছে, একজন শিক্ষার্থীর চরিত্রগঠনের জন্য কোনওরকম বিদ্বেষ ছাড়া ন্যূনতম শারীরিক শাস্তি গ্রহণযোগ্য। আদালতের বার্তা, এই ধরনের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা বিচার প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের সামিল।
