নজরদারি দল পাঠানো হয় সব রাজ্যেই। টাকা আটকে শুধুমাত্র বাংলার। সংসদে কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে আবারও প্রকাশ্যে এল বাংলার বঞ্চনার চিত্র। লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র স্বীকার করেছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নজরদারি দল পাঠানো হলেও একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে।
তৃণমূল সাংসদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান জানিয়েছেন, গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পে 'স্বচ্ছতা' ও 'নজরদারি'র নামে বিভিন্ন রাজ্যে কেন্দ্রীয় দল পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই একই উত্তরে তিনি স্বীকার করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ২০২২-২৩ থেকে আজ পর্যন্ত এক টাকাও কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায়। মন্ত্রী নিজেই বলছেন, "২০১৬-১৭ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত বাংলাকে দেওয়া হয়েছিল প্রায় ২৫,৭৯৮ কোটি টাকা। তারপর যোগ্য-অযোগ্য বাছাই নিয়ে সমস্যা, প্রকল্পের নাম বাংলা আবাস যোজনা রাখা, এই সব কারণ দেখিয়ে পুরো অর্থ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অথচ একই বক্তব্যে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, কেরল, অসম-সহ দেশের বহু রাজ্যে কেন্দ্রীয় নজরদারি দল গিয়ে 'অনিয়ম খুঁজেছে', পর্যবেক্ষণ করেছে, রিপোর্ট দিয়েছে, কিন্তু কোথাও অর্থ বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মন্ত্রী আরও বলেছেন, অভিযোগ এলে রাজ্যগুলিকে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট দিতে বলা হয় এবং কেন্দ্র তা খতিয়ে দেখে। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে বছরের পর বছর রিপোর্ট জমা পড়লেও তা 'সন্তোষজনক নয়' বলে টাকা আটকে রাখা হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যে উত্তর দিয়েছেন তাতেই স্পষ্ট- বাংলাকে আলাদা করে শাস্তি দেওয়াই বিজেপির সরকারি নীতি। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই লোকসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য বাংলার মানুষ ১০০ দিনের রোজগার গ্যারান্টি আইনের রোজগার পাচ্ছেন না। আবাসের যোজনার ঘর থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমনকী খাবার জল (পড়ুন জল জীবন মিশনের টাকা) পর্যন্ত দেওয়া হয় না। এখানে পানীয় জলটুকুও রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে বিজেপি।
