ফের আত্মঘাতী এক নিট পরীক্ষার্থী। জানা গিয়েছে, ১৯ বছর বয়সি ওই পরীক্ষার্থী ভালো ফল করতে পারেননি রি-নিটে। ফল প্রকাশের পর থেকেই অবসাদে ভুগছিলেন। শনিবার চরম পদক্ষেপ নেন তিনি। পরিবারের মতে, নিটের জন্য ভালোমত প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন ওই পড়ুয়া। কিন্তু পুনর্মূল্যায়নে সেভাবে ভালো হয়নি পরীক্ষা। তার জেরেই চরম সিদ্ধান্ত।
ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের আহিল্যনগরে। জানা গিয়েছে, মৃত নিট পরীক্ষার্থীর নাম অঙ্কিতা সাঙ্গালে। শনিবার তাঁর বাড়িতে কেউ ছিল না। সেসময়েই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে পুলিশ এসে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। সুইসাইড নোটে লিখে যান, 'মা, বাবা তোমরা আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছ। কিন্তু তোমাদের একটাও ইচ্ছা পূরণ করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা কোরো। আমার এই সিদ্ধান্তের জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার চলে যাওয়া নিয়ে মন খারাপ কোরো না। অনেক ত্যাগস্বীকার করেছি, কিন্তু ফল হল না।'
নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে দেশব্যাপী প্রতিবাদের পর শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেদিনই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অঙ্কিতার ঝুলন্ত দেহ। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, চলতি বছর প্রথমে যে নিট হয়েছিল সেখানে ভালো ফলের আশা ছিল অঙ্কিতার। কিন্তু সেই পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে আর আশানুরূপ ফল হয়নি। মাত্র ১৬৬ নম্বর পেয়েছিলেন। তারপর থেকেই অবসাদে ভুগছিলেন অঙ্কিতা। অবশেষে চরম সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, প্রথমবার গত ৩ মে ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর প্রশ্নফাঁস কাণ্ড সামনে আসে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নিট-ইউজি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। তারপর থেকেই একাধিক পড়ুয়ার আত্মহত্যার খবর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। অন্তত ১৪ জন নিট পরীক্ষার্থী চরম পদক্ষেপ করেন। দেশজুড়ে শুরু হয় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের আন্দোলন। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। প্রশ্ন ফাঁস রুখতে সংসদে পেশ হয়েছে কড়া আইন প্রণয়নের বিল।
