অযোধ্যার রাম মন্দিরে তিন হাজার কোটি টাকার চুরি নিয়ে দেশজুড়ে হইচই। প্রশ্নের মুখে খোদ শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্যরা। ঘটনায় মুখ পুড়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের। অবশেষে রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। যদিও সঙ্ঘের বক্তব্য, ঘটনাটিকে এমন ভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যাতে হিন্দু সমাজ এবং ভগবান রামের লক্ষ লক্ষ ভক্তের অনুভূতি ও বিশ্বাস গভীরভাবে আহত হচ্ছে। দেশবিরোধী শক্তিগুলো হিন্দুধর্মকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।
সঙ্ঘের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। "এই ঘটনা সমগ্র হিন্দু সমাজ এবং ভগবান রামের লক্ষ লক্ষ ভক্তের অনুভূতি ও বিশ্বাসকে গভীরভাবে আহত করেছে। এমন ঘটনায় আমরা সকলেই গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত।" সঙ্ঘের দাবি, শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুরোধে, উত্তরপ্রদেশে সরকারের নির্দেশে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের কঠোর দাবি জানিয়েছে সঙ্ঘের তরফে বলা হয়েছে, "যিনিই দোষী সাব্যস্ত হন, তাঁকে আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।"
সঙ্ঘের তরফে আরও বলা হয়েছে, "রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং সমগ্র হিন্দু সমাজ আশা করে যে, অত্যন্ত নিন্দনীয় এই ঘটনাটিকে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’ একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করবে এবং মন্দিরের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।" একথা বলেও সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে বলেন, "হিন্দু-বিরোধী ও দেশবিরোধী শক্তিগুলো" "এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা"-কে কাজে লাগিয়ে হিন্দু ধর্মকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। এই কঠি সময় মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ কতে হবে। যোগ করেন আশা করি, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের গঠন করা তদন্ত কমিঠি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
প্রসঙ্গত, রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এমনকী শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পদত্যাগী প্রধান চম্পত রাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারীরা। যেহেতু সন্দেহের আওতায় তিনিও রয়েছেন। এরপরেও মন্দিরে চুরির ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য। চম্পতের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলছেন, “এসব নিয়ে এত হইচই করার মতো কিছুই হয়নি।” এবার সঙ্ঘের তরফে দোষীদের শাস্তি দাবি করেও 'হিন্দুবিরোধী' ও 'দেশবিরোধী' শক্তিগুলিকে কাঠগড়ায় তোলা হল। সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেসের মতো বিরোধীদের বক্তব্য, যে রামন্দিরকে খুড়োর কল বানিয়ে ভোট লুটেছে বিজেপি, সেখানেই চুরিতে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে গেরুয়া নেতাদের।
