আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল মহিলা-বিরোধী। তিনি দুর্নীতি এবং গুন্ডাগিরিতে জড়িত। বিজেপিতে যোগ দিয়েই বিস্ফোরক প্রাক্তন আপ সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল। সংবাদমাধ্যম ‘এএনআই’কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কোনও বাধ্যবাধকতা নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের ওপর বিশ্বাসের কারণেই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। যাঁরা গঠনমূলক রাজনীতি করতে চান, আমি তাঁদের সবাইকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
২০২৫ সালে ভোটমুখী দিল্লিতে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন স্বাতী। তিনি দাবি করেছিলেন, কেজরিওয়ালের প্রাক্তন সচিব বৈভব কুমার তাঁর উপর যে হামলা চালিয়েছিলেন, তাতে প্রত্যক্ষ মদত ছিল আপ প্রধানের। স্বাতী আরও দাবি করেন, বৈভব কেজরির মুখোশ খুলে দিতে পারেন। সেই ভয়ে তাঁকে চটাতে চান না উনি। এক বছরেরও বেশি পুরনো সেই প্রসঙ্গত টেনে স্বাতী বলেন, “২০০৬ থেকে আমি কেজরিওয়ালের সঙ্গে কাজ করে আসছি। তাঁর প্রতিটি আন্দোলনকে আমি সমর্থন করেছি। কিন্তু কেজরিওয়াল গুন্ডা পাঠিয়ে আমাকে মারধর করিয়েছেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, আমি যে এফআইআরটি দায়ের করেছিলাম তা তুলে নেওয়ার জন্য কেজরিওয়াল চাপ সৃষ্টি করেন। দল আমাকে দুই বছর ধরে সংসদে কথা বলার কোনও সুযোগ দেয়নি। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কেজরিওয়াল মহিলা-বিদ্বেষী।” স্বাতী আরও বলেন, "কেজরিওয়াল দুর্নীতি এবং গুণ্ডাগিরির জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, মোদি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। অপারেশন সিঁদুরে শত্রুদের ঘরে ঢুকে তাঁদের হত্যা করা, দেশে নকশালবাদের অবসান ঘটানো কিংবা সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল পেশ করা - মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের উন্নয়নের জন্য একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"
উল্লেখ্য, যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে গিয়েছেন আপের আরও ছয় নেতা। তাঁরা হলেন স্বাতী, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহানি। এর অর্থ আপের মোট ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদের মধ্যে সাতজনই এখন বিজেপিতে।
