নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। শুক্রবারই তাঁকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার খবর ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন পদে দায়িত্ব নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন অশোক। শুধু অশোক নন, ভোটের বাংলা থেকে বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসকেও সদস্য হিসাবে নীতি আয়োগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিন সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নীতি আয়োগের নতুন সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান মোদি। প্রথমে ইংরাজি ও পরে বাংলায় পোস্ট করেন তিনি।
নীতি আয়োগের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। তাঁর ডেপুটি হিসেবে কাজ করবেন অশোক। তাঁর আগে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সুমন বেরি। এদিন অশোকের সঙ্গে দেখা করে নরেন্দ্র মোদি সমাজমাধ্যমে লেখেন, দেশের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নীতি আয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই স্তম্ভ যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করে। এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত চিন্তাভাবনার একটি গতিশীল মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। এরপরই উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অশোককুমার লাহিড়ীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাশাপাশি নীতি আয়োগের ফুলটাইম সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় গৌবর্ধন দাস, রাজীব গৌড়া, অধ্যাপক কেভি রাজু, অধ্যাপক অভয় করন্দিকর এবং এম শ্রীনিবাসকেও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলায় পোস্ট করে মোদি লেখেন, 'অশোককুমার লাহিড়ী জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে আমার শুভকামনা জানালাম। অর্থনীতি এবং জননীতিতে তাঁর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ভারতের সংস্কারের পথ এবং 'বিকশিত ভারত' হয়ে ওঠার যাত্রাপথকে আরো শক্তিশালী করবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে তাঁর প্রচেষ্টা আমাদের দেশের নীতি নির্ধারণকে আরও গতিশীল করবে। তাঁর ফলপ্রসূ কার্যকালের জন্য আমার অনেক শুভকামনা রইল।'
এরপর গোবর্ধন দাসকে বাংলায় পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানান মোদি। তিনি লেখেন, 'প্রফেসর গোবর্ধন দাস জি, অনেক অনেক অভিনন্দন! অক্লান্ত পরিশ্রম এবং বিনম্র ব্যবহার, আপনার এই জীবনযাত্রা প্রত্যেকের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। জনস্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আপনি যে অমূল্য অবদান রেখেছেন, তার জন্য সারা দেশ গর্বিত। আপনার কার্যকালের জন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা রইল।'
প্রসঙ্গত, অর্থনীতিবিদ হিসাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন অশোক। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যুক্ত ছিলেন বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আইএমএফের সঙ্গেও। এছাড়া সরকারের আর্থিক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্যও ছিলেন। গতবার বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন অশোক। এবার নীতি আয়োগে তাঁর নতুন ইনিংস। অন্যদিকে, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মলিকুলার মেডিসিনের প্রাক্তন অধ্যাপক গোবর্ধন দাস বর্তমানে ভোপাল আইআইএসসির ডিরেক্টর। তাঁকেও নীতি আয়োগের অন্তর্ভুক্ত করল কেন্দ্র সরকার। অন্যদিকে, বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসকেও সদস্য হিসাবে নীতি আয়োগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গতবছর বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে গোবর্ধনকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু ভোটে জিততে পারেননি গোবর্ধন। এবারের ভোটে তাঁকেও টিকিট দেয়নি গেরুয়া শিবির। কিন্তু নীতি আয়োগের সদস্য হয়েছেন তিনি। বাংলায় দুই দফা ভোটের মাঝখানে দুই বাঙালিকে নীতি আয়োগের অন্তর্ভুক্ত করার মধ্যে অনেকেই নির্বাচনী রাজনীতির ছায়া দেখছেন।
