দিল্লি আবগারি কেলেঙ্কারি মামলায় এবার বিচারপতি ডঃ স্বর্ণকান্ত শর্মাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই মামলায় তিনি বিচারপতি শর্মার বেঞ্চে আর হাজিরা দেবেন না। কারণ, তিনি বিচারপতির উপর আস্থা হারিয়েছেন। তাই মহাত্মা গান্ধীর দেখানো ‘সত্যাগ্রহে’র পথে হেঁটেই তাঁকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সোমবার বিচারপতি শর্মাকে পাঠানো একটি চিঠিতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কেজরিওয়াল। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিচারপতি শর্মার সন্তানরা, যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের প্যানেল আইনজীবী হিসাবে কাজ করেন, তাঁদের সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার যোগসূত্র রয়েছে। এদিকে তুষার মেহতাই আবার আবগারি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন। কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার প্রদানে বিচারপতি শর্মার উপর থেকে তিনি আস্থা হারিয়েছেন। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আমি বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মাকে একটি চিঠি লিখেছি। সেখানে আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, গান্ধীবাদী সত্যাগ্রহ নীতি অনুসরণ করে আমার পক্ষে তাঁর আদালতে সশরীরে কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হওয়া সম্ভব নয়।’
গত জানুয়ারিতে আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া-সহ অন্যান্য আপ নেতাদের মুক্তি দিয়েছে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সেই মামলার শুনানি চলছে বিচারপতি শর্মার বেঞ্চে। কিন্তু আপের দাবি, বিচারপতি শর্মা পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি যাতে আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে সরে যান সেই আবেদনও জানান কেজরিওয়াল এবং অন্যান্য অভিযুক্তরা। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এই মামলায় নিজেই সওয়াল করেছিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে এবার বিচারপতি শর্মাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেন কেজরিওয়াল।
