পাসপোর্ট হল বিদেশ ভ্রমণের নথি, নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। বিদেশমন্ত্রকের এই বার্তার এই নিয়ে দেশজুড়ে চলছে প্রবল বিতর্ক। আমজনতা দিশেহারা। নিজেকে ভারতীয় হিসাবে প্রমাণ করতে ঠিক কী কী নথি প্রয়োজন, ভেবে পাচ্ছেন না। এহেন পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সাফ জানিয়ে দিলেন, একমাত্র বিজেপির সদস্যপদ দেখাতে পারলেই প্রমাণিত হবে ভারতীয় নাগরিকত্ব। পাসপোর্ট ইস্যু করার পদ্ধতি তুলে ধরেও কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন এআইএমআইএম নেতা।
পাসপোর্ট নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ওয়েইসির তোপ, "কেন্দ্র মনে হয় বলতে চাইছে, বিজেপির সদস্য়পদের কার্ড থাকলেই ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ হয়ে যাবে। আর বছরচারেক পরেই এমনটা হতে পারে।" সাংসদ আরও বলেন, "আমি জন্মগতভাবে এবং স্বেচ্ছায় ভারতের নাগরিক। আমার ঠাকুরদার ঠাকুরদা এদেশে জন্মেছেন, পূর্বপুরুষরাও এখানেই ছিলেন। আমার মনে সরকার চাইছে, যেকোনও মানুষকে যখন তখন পাকড়াও করে প্রশ্ন করবে, 'আপনি কি আদৌ ভারতীয়'?"
পাসপোর্ট আইন উল্লেখ করে ওয়েইসি বলেন, "ভারতীয় নাগরিক না হলে তাঁকে ভারত সরকার পাসপোর্ট দেয় না। পুলিশ ভেরিফিকেশনের পরেই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। ভারতের নাগরিক নন, এমন কাউকে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা নয়। আজ যদি কেন্দ্র বলে, নাগরিকত্বের শংসাপত্রটাই আসল প্রমাণ, সেখানেও পালটা যুক্তি রয়েছে। কারণ জন্মসূত্রে ভারতীয়দের কাছে এমন কোনও শংসাপত্র থাকে না।" কেবল ওয়েইসি নন, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সরব হয়েছেন এই ইস্যুতে।
প্রসঙ্গত, বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, নাগরিকত্ব মেলে সিটিজেনশিপ আইনের দ্বারা। কিন্তু পাসপোর্ট প্রদান করা হয় পাসপোর্ট আইনের আওতায়। বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সরকার মনে করলে বিশেষ পরিস্থিতিতে এমন কাউকে পাসপোর্ট দিতে পারে যিনি ভারতের নাগরিক নন। নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের ভারতে জন্ম হলে তাঁরা জন্মসূত্রে ভারতীয়। ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসের পরে জন্মগ্রহণকারী কোনও ব্যক্তিও নাগরিকত্বের দাবি করতে পারেন, যদি তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজন নাগরিক হন। এছাড়াও ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ বা তার পরে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের দাবি করা তখনই সম্ভব, যদি তাঁদের বাবা-মা উভয়েই ভারতীয় হন।
