ভোটমুখী অসমে চলছে দলবদলের হিড়িক। কেউ কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাচ্ছেন, কেউ বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে। এহেন ডামাডোলের মধ্যে এবার কংগ্রেসে যোগ দিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারের মন্ত্রী নন্দিতা গারলোসা। সূত্রের খবর, টিকিট বন্টন নিয়ে অসম বিজেপির অন্দরে রীতিমতো গৃহযুদ্ধ চলছে। অনেকেই নির্দল হিসাবে নির্বাচনে লড়বেন বলেই খবর ভাসছে হাওয়ায়। সবমিলিয়ে ভোটের আগে অসমে বাড়ছে রাজনৈতিক নাটকীয়তা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে হাফলং কেন্দ্র থেকে জিতে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন নন্দিতা। বিদ্যুৎ, খনিজ থেকে শুরু করে ক্রীড়া এবং যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাঁকে টিকিটই দেয়নি বিজেপি। হাফলং থেকে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হয়েছেন একেবারে আনকোরা মুখ রূপালি লাংথাসা। তারপর থেকেই নন্দিতার ক্ষোভ বাড়ছিল। সম্ভবত সেটা সামাল দিতেই রবিবার নন্দিতার বাড়িতে গিয়েছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত। কিন্তু সেই বৈঠকে লাভ হয়নি। সোমবার সকালে কংগ্রেসে যোগ দেন নন্দিতা। শোনা যাচ্ছে, মঙ্গলবারের মধ্যেই হাফলং থেকে তাঁকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করবে কংগ্রেস।
শোনা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে বহু প্রত্যাশীকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। তাঁরা নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়তে পারেন ভোটে। বিজেপির নেতারা যদি নির্দল হয়ে ভোট কাটেন, সেক্ষেত্রেও বাড়তে পারে কংগ্রেসের সম্ভাবনা।
আগামী ৯ এপ্রিল অসমে ভোট। নির্বাচনের মাত্র ১৭ দিন আগে নন্দিতার এই যোগদান গৌরব গগৈদের মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে। সম্প্রতি একের পর এক দলত্যাগে অস্বস্তি বেড়েছে কংগ্রেসের। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হাত শিবির কতটা লড়াই দিতে পারবে সেই নিয়ে সংশয় ছিল। নন্দিতার যোগদানে কংগ্রেসের জমি কিছুটা শক্ত হতে পারে বলেই মত বিশ্লেষকদের। হাত শিবিরের মুখে হাসি ফোটাতে পারে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বও। শোনা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে বহু প্রত্যাশীকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। তাঁরা নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়তে পারেন ভোটে।
উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই অসমের ভূমিপুত্রদের দল রাইজোর দলের সঙ্গে জোট চূড়ান্ত করেছে কংগ্রেস। রাজ্যে মুসলিম ভোটের পাশাপাশি অহমিয়া ভূমিপুত্রদের ভোটও টানতে চাইছেন গৌরবরা। সেকারণেই রাইজোর দলের সঙ্গে জোট। এবার বিজেপির নেতারা যদি নির্দল হয়ে ভোট কাটেন, সেক্ষেত্রেও বাড়তে পারে কংগ্রেসের সম্ভাবনা। সবমিলিয়ে ভোট একেবারে দোরগোড়ায় এসে গেলেও একের পর এক চাল দিয়ে চলেছে হাত শিবির।
