ঘিঞ্জি বসতির মধ্যে অপরিসর গলি। তার মধ্যে আবার কানাগলির সংখ্যাও কম নয়। সেই গলি দিয়েই ছুটে চলেছে জনা চারেক তরুণ। তাদের একটু তফাতে দৌড়ে আসছেন আরও কয়েকজন। তাঁদের পথ আটকাতে ঘরগুলির সামনে রাখা জলের ড্রাম, কাঠের চেয়ার, যা পাচ্ছে তা ফেলে দিচ্ছে তারা। সেগুলি টপকেই ওই তরুণদের দিকে দৌড়ে চলেছেন ওই ব্যক্তিরা। চোর-পুলিশের এই ‘চেজ’ যে কোনও সিনেমার স্ক্রিপ্টকে হার মানিয়ে দেয়। উত্তর কলকাতার চিৎপুরের জ্যোতি কলোনিতে চার কুখ্যাত দুষ্কৃতীর পিছনে দৌড়চ্ছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের একটি টিম। একজন চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘‘রুবেল থাম বলছি।’’ কিন্তু অলিগলি দিয়ে দৌড়ে গঙ্গার ধারে এসে পৌঁছে গেল ওই তরুণরা। লালবাজারের গোয়েন্দারা তখন গঙ্গার পাড় দিয়ে দৌড়ে হাত বাড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছেন ওই তরুণদের। কিন্তু গোয়েন্দাদের অপ্রস্তুত করে একে একে গঙ্গায় ঝাঁপ তারা। গোয়েন্দাদের চোখের সামনেই গঙ্গার স্রোতে সাঁতার কেটে চলে গেল চোখের বাইরে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
উত্তর কলকাতার কাশীপুরের ঝিল রোডের বিদ্যুৎ সংস্থার গোডাউন থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার সরঞ্জাম ও কেবল চুরির ঘটনা ঘটে। চিৎপুরের জ্যোতি কলোনির ঘিঞ্জি জায়গায় গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে পালালেও শেষ পর্যন্ত লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের চুরি দমন শাখার আধিকারিকদের চোখ এড়াতে পারল না রুবেলদের গ্যাং। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর ও তার আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে কয়েক দফায় চারজনকেই গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দারা। তাদের নাম মহম্মদ রুবেল, ইব্রাহিম শেখ, আশরফ মোড়ল ও জামিরুল শেখ। তাদের জেরা করে শ্যামপুকুরের গ্যালিফ স্ট্রিট থেকে শম্ভুনাথ সাউ নামে এক ব্যক্তিকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকেও উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া সামগ্রীর অংশ। সিইএসসি-র কেবল চুরির কিনারা করে চোরদের গ্রেপ্তার করার জন্য কাশীপুরের ওয়্যারহাউজের গেটের কাছেই হাতে লেখা পোস্টারের মাধ্যমে রাজ্যের প্রশাসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিইএসসির শ্রমিকরা।
উত্তর কলকাতার কাশীপুরের ঝিল রোডের বিদ্যুৎ সংস্থার গোডাউন থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার সরঞ্জাম ও কেবল চুরির ঘটনা ঘটে। চিৎপুরের জ্যোতি কলোনির ঘিঞ্জি জায়গায় গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে পালালেও শেষ পর্যন্ত লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের চুরি দমন শাখার আধিকারিকদের চোখ এড়াতে পারল না রুবেলদের গ্যাং। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর ও তার আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে কয়েক দফায় চারজনকেই গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দারা।
পুলিশ জানিয়েছে, কাশীপুরের ওয়্যারহাউজ থেকে বহুদিন ধরেই চুরির ঘটনা ঘটছিল। কখনও গঙ্গার পাড় ধরে এসে আবার কখনও বা পাঁচিল টপকে বিদ্যুৎ সংস্থার ওয়্যারহাউজের ভিতর প্রবেশ করে কেবল ও অন্যান্য বিদ্যুৎ সরঞ্জাম চুরি করছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু এই বছর অডিট হওয়ার সময়ই এই চুরি ধরা পড়ে। কাশীপুর থানায় প্রায় দেড় কোটি টাকার কেবল ও সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ দায়ের হয়। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের চুরি দমন শাখার আধিকারিকরা তদন্তভার নেওয়ার পর জানতে পারে যে, এর পিছনে রয়েছে জ্যোতি কলোনির বাসিন্দা কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেই সূত্র ধরেই গোয়েন্দারা রুবেলের গ্যাংকে শনাক্ত করেন। তাদের সন্ধানে জ্যোতি কলোনিতে তল্লাশি চালাতে এলেই তারা অলিগলি দিয়ে দৌড়ে গঙ্গায় লাফ দিয়ে পালিয়ে অন্য ঘাটে গিয়ে ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা ধরা পড়ে গোয়েন্দাদের হাতে। তাদের জেরা করে পুরো চোরাই সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
