যুদ্ধের অস্থির বাজারে মধ্যবিত্তের মুখে হাসি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রেকর্ড উচ্চতায় থাকার পর আচমকাই বিরাট পতন সোনার দামে (Gold Price)। পাল্লা দিয়ে পড়ল রুপোর দাম (Silver Price)। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই এই দাম সংশোধন সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যারা সোনায় বিনিয়োগ করেছেন তাঁদের জন্য এই পতন যথেষ্ট উদ্বেগের।
সোমবারের বাজার রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগের জেরে এদিন এমসিএক্স-এ রুপার দাম ৬% বা ১৩,৬০৬ টাকা কমে প্রতি কেজি ২,১৩,১৬৬ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে এমসিএক্স-এ সোনার দাম ৫% বা ৭১১৫ টাকা কমে প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৩৭৭ টাকায় নেমেছে। ভারতের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের বাজারে সোনার দাম ৩.৩% কমে প্রতিয়াউন্স ৪,৩৪৩ ডলারে নেমেছে। রুপোর দামও ৩.৪% কমে ৬৫.৬১ ডলারে পৌঁছেছে। দাম কমেছে প্ল্যাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতুর।
রুপার দাম ৬% বা ১৩,৬০৬ টাকা কমে প্রতি কেজি ২,১৩,১৬৬ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে এমসিএক্স-এ সোনার দাম ৫% বা ৭১১৫ টাকা কমে প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩৭,৩৭৭ টাকায় নেমেছে।
কিন্তু কেন হুড়মুড়িয়ে কমতে শুরু করেছে সোনার দাম? বিশেষজ্ঞদের দাবি অনুযায়ী, হলুদ ধাতুর এই পতনের নেপথ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক বাড়িয়েছে। যা বিশ্বের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। এই অবস্থায় শীর্ষ ব্যাঙ্কগুলিতে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা সোনার দামের জন্য নেতিবাচক। কারণ, সোনা কোনও সুদ দেয় না। এর পাশাপাশি আশঙ্কার বাজারে সোনা বিক্রির পরিমাণ ব্যাপক বেড়েছে। কারণ শেয়ারবাজারে লাগাতার পতন দেখা যাচ্ছে। সাধারণত বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে লোকসানের মুখে পড়লে সেই ক্ষতি সোনা বিক্রি করে পুশিয়ে নেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এসবের পাশাপাশি ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে চরমসময়সীমা দিয়েছেন, অন্যদিকে ইরান পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। এই সংঘাত বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে, যা স্পষ্টতই সোনার দামকে প্রভাবিত করছে।
