অসমে SIR হলে কমপক্ষে ৪ লক্ষ মিয়াঁ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বিজেপি নেতার এমন মন্তব্য নিয়ে শোরগোল অসমের রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি ধরে রাখতে এমনই মরিয়া হয়ে গিয়েছেন হিমন্ত, যে তিনি কেবল মিয়াঁদেরই নয়, সমস্ত দরিদ্র মানুষকেই অসম্মান করা শুরু করেছেন। এক বিধায়কের দাবি, আগামী ১৫ বছরে মিয়াঁরা কেবল অসম নয়, গোটা বিশ্ব শাসন করবে।
প্রসঙ্গত, এক মাস বাদেই অসমে ভোট। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার জন্য প্রস্তুত হিমন্তকে বলতে শোনা যায়, “মিয়াঁরা যাতে ভোট দিতে না পারে, তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি আমরা। তবে এটা ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ। যখন অসমে এসআইআর হবে তখন ৪-৫ লক্ষ মিয়াঁ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে।” যোগ করেন, “কংগ্রেস আমাকে যতই হেনস্তা করুক। আমার কাজ হল মিয়াঁদের সমস্যায় ফেলা। ওরা সমস্যায় না পড়লে দুলিয়াজান, তিনসুকিয়ায় চলে আসবে। ক’দিন আগে তিনসুকিয়ার একটি জমি হস্তান্তরের তালিকা হাতে এসেছে। হিন্দুর সম্পত্তি বিক্রি করছে, মিয়াঁ মুসলিমরা কিনে নিচ্ছে। এখনই যদিও খেয়াল না করি, কখন করব?”
বিরোধীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি ধরে রাখতে এমনই মরিয়া হয়ে গিয়েছেন হিমন্ত, যে তিনি কেবল মিয়াঁদেরই নয়, সমস্ত দরিদ্র মানুষকেই অসম্মান করা শুরু করেছেন।
তাঁর এহেন মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। AIUDF প্রধান বদরুদ্দিন আজমল বলেছেন, ''এটা খুবই দুর্ভাগ্যের। আমি হাত জড়ো করে বলতে চাই, দয়া করে আপনার কথাটা ফিরিয়ে নিন। অন্যথায় মিঁয়ারা আপনার বোট ডুবিয়ে দেবে। মিয়াঁরা কোনও কিছুকে ভয় পায় না। আজ ক্ষমতার লোভে আপনি মিয়াঁ মুসলমানদের অপমান করছেন। কোনও সম্প্রদায়কে এভাবে অপমান করবেন না।'' সেই সঙ্গেই তাঁর হুঁশিয়ারি, অসমে এবারের নির্বাচনে হিমন্ত গোহারা হারবেন।
এদিকে অসমে কংগ্রেসের মুখপাত্র জেহেরুল ইসলাম বলেছেন, "মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একজন মিয়াঁ রিকশাচালককে ৫ টাকার পরিবর্তে ৪ টাকা দিতে বলে কোনও সম্প্রদায়কে অপমান করেননি। তিনি সেই সব দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্তদের অপমান করেছেন, যাঁরা জীবিকার জন্য রিকশা চালান।" সব মিলিয়ে অসমে হিমন্তর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে।
