তাঁর দলত্যাগ রুখতে ছুটে গিয়েছিলেন অসম কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ। ফোনে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেছিলেন খোদ রাহুল গান্ধী। অসম কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছিলেন, তিনি দলের সম্পদ। সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধী শিবিরের আরেক মুখ অখিল গগৈ বলে দিয়েছিলেন, কোনওভাবেই ভুপেন বোরাকে বিজেপিতে যেতে দেওয়া হবে না। কিন্তু এতকিছুর পরও তাঁকে আটকে রাখা গেল না। শেষমেশ বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন অসম কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভুপেন বোরা। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বিজেপিতে নাম লেখাচ্ছেন তিনি। অন্তত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার তেমনই দাবি।
ভুপেন বোরা অসম কংগ্রেসের প্রথম সারির মুখ। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। ভোটের এক বছর আগে আচমকাই তাঁকে সরিয়ে তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব গগৈকে প্রদেশ সভাপতির কুরসিতে বসায় কংগ্রেস হাই কম্যান্ড। তাতে রীতিমতো অপমানিত বোধ করেন ভুপেন। অভিযোগ, এরপরও তিনি দলে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অনুগামীদেরও প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্রাত্য করে দেন গৌরব। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার পদত্যাগ করেন ভুপেন।
সোমবার সকালে অসম কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রধান ভূপেন কুমার বোরা ইস্তফা দেন। ফাইল ছবি।
সেই পদত্যাগ নিয়েও বিস্তর নাটক হয়। তিনি কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে পদত্যাগের চিঠি পাঠাতেই তাঁর বাড়িতে ছুটে যায় কংগ্রেস শীর্ষ নেতাদের এক দল। ছিলেন গৌরব গগৈ, জিতেন্দ্র সিং। বেশ কয়েক ঘণ্টা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। ফোন করেন রাহুল গান্ধী। প্রায় ১৫ মিনিট টানা কথা বলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এসবের মধ্যেই আবার আসরে নামেন হিমন্ত। তিনি বলে দেন, "ভুপেন বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁকে স্বাগত। তিনিই কংগ্রেসের শেষ জনপ্রিয় হিন্দু নেতা। বিজেপিতে এলে তিনি যোগ্য সম্মান পাবেন।" একদিকে হিমন্তর 'অফার' অন্যদিকে কংগ্রেস নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা, এসবে দোটানায় পড়ে যান ভুপেন। পরে শোনা যায়, তিনি ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করছেন।
তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান হিমন্ত। সাক্ষাৎ শেষেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দেন, "ভুপেন আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এটাই তাঁর জন্য যোগ্য দল। অসম কংগ্রেসের শেষ জনপ্রিয় হিন্দু নেতা তিনিই। তাঁর মতো অনেকে বিজেপিতে আছেন। যারা বাবা-মায়ের জন্য কুরসি পাননি। আমাদের সভাপতি নীতীন নবীন ইতিমধ্যেই ভুপেনের যোগদানে সিলমোহর দিয়েছেন। ভুপেন বোরাকে বিজেপিতে যোগ্য সম্মান দেওয়া হবে।" যদিও ভুপেনের তরফে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। হিমন্তের দাবি সত্যি হলে অসমে ভোটের মুখে বিরাট ধাক্কা খেতে চলেছে কংগ্রেস।
