পাকিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত ভারতীয় সেনার ওয়েস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তরে গেলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সার্জিও গোর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল পাপারো। মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কতিয়ার। আর এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। অবশ্য এই ধরনের সফর বিরল হলেও একেবারেই নজিরবিহীন নয়। তবু বিরোধীদের তোপ, আমেরিকার মন জুগিয়ে চলছে মোদি সরকার। সব মিলিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
বলে রাখা ভালো, চণ্ডীগড়ে অবস্থিত সেনার এই সদর দপ্তর 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় সকলের নজরে ছিল। কেননা এখান থেকে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি ও বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ভারত। আর সেখানেই এবার মার্কিন প্রতিনিধিদের আগমনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই। কিন্তু কেন এসেছিলেন তাঁরা? এই নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। কিন্তু আলোচনা চলছেই। ওয়েস্টার্ন কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, 'প্রতিনিধি দলকে পশ্চিম ফ্রন্টের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপারেশনের প্রস্তুতি, অপারেশন সিঁদুরের বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা ও দেশের গঠনের ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।'
এদিকে বিরোধীরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে। শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর অভিযোগ, আমেরিকার কথামতোই চলছে কেন্দ্র। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''যেভাবে ভারতের কৌশলী আগ্রহ আমেরিকার ইচ্ছানুসারে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, সেখানে এমন সফর প্রত্যাশিতই। মার্কিন রাষ্ট্রদূত যা করছেন তা তাঁর দেশের জন্য। আমাদের জন্য কে তা করছেন? উত্তরটা যেন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।'' এদিকে এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেসের তোপ, 'আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি পাকিস্তানের আইএসআই কীভাবে পাঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল এই সরকারের আশীর্বাদে!' তবে বিরোধীরা এমন সব তোপ দাগলেও ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ কিন্তু মনে করছে না এই সফর বিরল হলেও একেবারে অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং দুই দেশের সেনার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মত বিনিময়েরই একটা অংশ।
