shono
Advertisement
Bihar

সরকার বিরোধী পোস্ট করা সমাজকর্মীর এনকাউন্টারে মৃত্যুতে উত্তাল বিহার, চাপে পড়ে তদন্তের নির্দেশ

২৮ বছরের ভরতভূষণ তিওয়ারি ভোজপুর জেলার শাহপুরের বিলাউতি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেন তিনি।
Published By: Kishore GhoshPosted: 04:17 PM Jun 22, 2026Updated: 05:34 PM Jun 22, 2026

নিজের এলাকা ও রাজ্যের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রেই সোশাল মিডিয়ায় তাঁর সচেতনতামূলক পোস্টে অস্বস্তি পড়ত বিহারের বিজেপিশাসিত সরকার। সেই সমাজকর্মী ভরতভূষণ তিওয়ারিকে এনকাউন্টারে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠছে। থানা ঘেরাও করে, রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নেমেছে জনতা। এই অবস্থায় চাপে পড়ে সমাজকর্মীর ভরতভূষণের এনকাউন্টার নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী।

Advertisement

শনিবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, "স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পাটনা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।" ১৭ জুন ভোজপুর জেলায় ভরতের মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল বিহারের রাজনীতি। বিরোধী রাজনৈতিকগুলি এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুয়ো এনকাউন্টারে মারা হয়েছে ভরতকে। যদিও পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য ভরতভূষণের পায়ে গুলি করা হয়েছিল। আসলে কী ঘটেছিল?

২৮ বছরের ভরতভূষণ তিওয়ারি ভোজপুর জেলার শাহপুরের বিলাউতি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করতেন তিনি। গ্রামবাসীরা তাঁকে একজন সমাজকর্মী বলেই পরিচয় দেন, যিনি দরিদ্র পরিবার, বন্যাদুর্গত ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সমস্যা তুলে ধরতেন। ভোজপুর পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ জুন তাদের কাছে খবর আসে যে ভরতভূষণ বন্দুক হাতে বিলাউতি গ্রামের রাস্তায় ঘুরছেন। এমনকী জনতার ভিড়ে গুলি চালিয়েছেন তিনি। এরপরেই সেখানে পৌঁছায় এসটিএফ। ভরতকে বারবার আত্মসমর্পণ করতে বললেও তিনি শোনেননি। উলটে পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপরেই তাঁর পায়ে গুলি করা হয়। আহত ভরতভূষণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। যদিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

যদিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা গিয়েছে, পুলিশের গুলি করার আগেই নিজের বন্দুক ফেলে দিচ্ছেন ভরতভূষণ। (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। এরপরই গোটা বিষয়টিকে নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। সাধারণ জনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা করায় খুন করা হয়েছে সমাজকর্মীকে। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের বলেছেন, "মুখ্যমন্ত্রী কখন ভরতের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইবেন? একদিকে যখন তিনি বিচারবিভাগীয় তদন্তের কথা বলছেন, তখন তাঁর পুলিশই ভরতের পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর করছে!" জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা বলেন, ‘এনকাউন্টার নিয়ে পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।" এমনকী বিজেপি নেতাদের একাংশও এনকাউন্টারে সমাজকর্মী ভরতভূষণের হত্যার ঘটনার নিন্দা করেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement