Advertisement
ঋষভের সুরে মজে জেন জি! রেকর্ড আয়ে সেতার কনসার্টকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিচ্ছেন 'রবিশঙ্করের ছাত্র'
সফরটির নাম ছিল 'সেতার ফর মেন্টাল হেলথ'। সুরের ঝর্না নিয়ে ঋষভ তাঁর যাত্রা শুরু করেন মুম্বই থেকে। এসেছিলেন কলকাতাতেও।
সঙ্গীতের জগতে এই মুহূর্তে সুদর্শন সেতারবাদক ঋষভ রিখিরাম শর্মা রীতিমতো 'ট্রেন্ডিং'! এমনই তাঁর সুরের জাদু, মজেছে জেন জি-ও। দীপিকা পাড়ুকোন, আর মাধবনের মতো তারকারা ভিড় করেন তাঁর কনসার্টে। তাঁর সাম্প্রতিক 'ইন্ডিয়া ট্যুর' নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও ব্রিটেন সফরের সাফল্যের পর তাঁর এই ট্যুর ঘিরেও প্রত্যাশা ছিল। আর সেই প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন ঋষভ।
সফরটির নাম ছিল 'সেতার ফর মেন্টাল হেলথ'। সুরের ঝর্না নিয়ে ঋষভ তাঁর যাত্রা শুরু করেন মুম্বই থেকে। এরপর বেঙ্গালুরু, পুণে, হায়দরাবাদ, জয়পুর, চেন্নাই, আহমেদাবাদ, চণ্ডীগড়, কলকাতা হয়ে দিল্লিতে শেষ হয় ঋষভের ট্যুর। ভারতীয় নব্য-শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক লাইভ কনসার্টের অভিজ্ঞতাও যে স্টেডিয়াম স্তরের চাহিদা তৈরি করতে পারে, সেটা দেখানোই ছিল শিল্পীর মূল উদ্দেশ্য। তিনি তাঁর লক্ষ্যে সফল হয়েছেন।
কিংবদন্তি রিখিরাম পরিবারের (১৯২০ সাল থেকে যারা বাদ্যযন্ত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত) সন্তান ঋষভ। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আজীবন সমঝদার তো বটেই, ঋষভের সঙ্গীতে বুঁদ প্রথমবারের মতো এই জগৎকে আবিষ্কার করা জেন জি প্রজন্মও! দর্শকের এই বৈচিত্রই রূপবান এই শিল্পীর জনপ্রিয়তাকে সুস্পষ্ট করে তোলে। তিনি সেই সেতুটা তৈরি করতে পেরেছেন, যেখানে সকলেরই পদচারণা সম্ভব হয়ে উঠেছে।
শোনা যায়, তিনি নাকি পণ্ডিত রবি শঙ্করের শিষ্য। যদি সম্প্রতি প্রয়াত শিল্পীর কন্যা অনুষ্কা জানিয়েছেন, এই ধারণা ঠিক নয়। তবে যাঁর কাছেই শিখে থাকুন, ঋষভের ডিএনএ-তে মিশে রয়েছে সুর। মঞ্চে তিনি থাকেন নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রিক সেতার 'সিতারা' নিয়ে। বলতে গেলে এই যন্ত্র তাঁর নিজের হাতেই নির্মিত! আর সেটাই এখন গোটা বিশ্বকে তাঁর সুরের অনুগামী করে তুলেছে।
ঋষভের এই সফরে সব মিলিয়ে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ এসেছেন। কেবল কলকাতার কনসার্টেই এসেছিলেন হাজার দশেকের বেশি মানুষ। এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ফ্যাক্টর নিঃসন্দেহে সাউন্ড হিলিং, রাগা থেরাপি, মন্ত্রোচ্চারণের ত্রিবেণী রসায়ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদেশের লাইভ এন্টারটেনমেন্ট ইকোসিস্টেমকে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন ঋষভ। এটাই হতে চলেছে ভবিষ্যৎ।
ঋষভের ট্যুরের আয়োজক 'টিম ইনোভেশন'-এর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধেশ কুদতার্কার বলছেন, ''দশটি শহর জুড়ে যা সাড়া মিলেছে তা আমাদের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। কেবল উপস্থিতির দিক থেকেই নয়, বরং আমরা যে গভীর মানসিক সম্পৃক্ততার সাক্ষী হয়েছি, তাও অসামান্য।'' এই উচ্ছ্বাস থেকেই স্পষ্ট কীভাবে একসঙ্গে একাধিক প্রজন্মকে সুরের মায়ায় জড়িয়েছেন ঋষভ।
কোন জাদুতে সকলকে মাত করেছেন ঋষভ? নুসরাত ফতে আলি খানের ‘মন আটকিয়া বেপরওয়া দে নাল’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একলা চলো রে’ এবং আশা ভোঁসলের ‘আভি না যাও ছোড় কর’-এর মতো কালজয়ী সৃষ্টির সঙ্গে ‘কিত বিধ মিলে’ ও ‘চন্দ্রচূড়া’-র মতো ভক্তিমূলক রচনাকে মিশিয়ে তিনি ঐতিহ্য ও আধুনিক ভাবপ্রকাশের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।
সফরের শেষ গন্তব্য নয়াদিল্লিতে ঋষভ আরও চমকে দিয়েছেন। কোনও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে জাইলোফোনের ব্যবহার এই প্রথম দেখা গেল। সেই সঙ্গে ছিল আতশবাজির জৌলুস! এই 'এক্সপেরিমেন্ট' ছিল একেবারে নতুন। যা দর্শকের উপরে প্রভাব বিস্তার করতে ষোলো আনা সফল।
আসলে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চিরাচরিত ভাবমূর্তিকে বদলে দিতে চেয়েছেন ঋষভ। এমনকী হ্যারি পটার ও গেম অফ থ্রোনস-এর বিখ্যাত আবহকেও এঁকেছেন সেতার দিয়ে! এখানেই তাঁর 'মাস্টারস্ট্রোক'। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে এই সব 'পপুলার' উপাদানের মিশ্রণ তাঁর সঙ্গীতের প্রতি এমন অনেককে আকৃষ্ট করতে পেরেছে, যাঁরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে ভয় ও ভক্তি দুই-ই পোষণ করেন মনের গভীরে।
নতুন প্রজন্মকে এই ধরনের সঙ্গীতের প্রতি টেনে আনতে এমন পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামিদিনে ঋষভ রিখিরাম শর্মা আরও বহু দূর এগোবেন। আর ততই সেতার বাদনকে তিনি ছড়িয়ে দেবেন নতুন প্রজন্মের কাছে। রক, জ্যাজের মতো পাশ্চাত্য সঙ্গীতে মজে থাকা এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও সময়ে সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি করে শাস্ত্রীসঙ্গীতে বুঁদ হবেন তা বলাই যায়।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:11 PM Apr 21, 2026Updated: 08:11 PM Apr 21, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
