দীর্ঘ হিংসা পেরিয়ে অবশেষে কিছুটা হলেও শান্ত উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সেখানে সরকার গড়তে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি। জরুরি তলবে সোমবার দিল্লি আসেন মণিপুরের এনডিএ বিধায়করা। পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিতে সেই বৈঠকেই বিজেপির সর্বভারতীয় জেনারেল সেক্রেটারি তরুণ চুগকে মণিপুরের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সূত্রের খবর, মণিপুরে সরকার গড়ার প্রাথমিক অঙ্কও সেরে ফেলা হয়েছে। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংঘাত ঠেকাতে মেতেই সম্প্রদায়ের কাউকে মণিপুরে মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে এবং কুকি সম্প্রদায়ের কাউকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে।
২০২৩ সাল থেকে ভয়াবহ হিংসার আগুনে জ্বলেছে মণিপুর। মৃত্যু হয়েছে ৩০০-র বেশি মানুষের, ঘরছাড়া লক্ষাধিক। মেতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের সেই সংঘর্ষ পেরিয়ে বর্তমানে কিছুটা শান্ত উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। ফলে সরকার গঠন হলে মণিপুরে যাতে নতুন করে হিংসা না ছড়ায় তার জন্য বিজেপির পরিকল্পনা মেতেই সম্প্রদায় থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও কুকি সম্প্রদায় থেকে উপমুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়া। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে উঠে আসছে একাধিক নাম। যেমন বিরেন সিংয়ের সরকারের বিধানসভার স্পিকার সত্যব্রত সিং, প্রাক্তন মন্ত্রী টি এইচ বিশ্বজিৎ সিং এবং কে গোবিন্দ দাস। এরা সকলেই মেতেই সম্প্রদায়ের। অন্যদিকে কুকি সম্প্রদায় থেকে আনা হবে উপমুখ্যমন্ত্রী মুখ।
যদিও কুকিদের তরফে আগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, সরকারে তাঁদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধি না থাকলে সেই সরকার তারা মানবে না। কুকিদের সেই দাবিই বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি কিছু বিধায়কের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, মণিপুরকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে গঠন করার। যাদের নিজস্ব বিধানসভাও থাকুক।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মণিপুরে শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ। সূত্রের খবর, নতুন করে আর রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না সেখানে।
উল্লেখ্য, মণিপুরের হিংসা থামাতে ব্যর্থ হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। তাঁর বিরুদ্ধে বারবার গর্জে উঠেছিল বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে ২০২৪-এর শেষ দিন মণিপুরে রক্তক্ষয়ী হিংসার জন্য রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন বীরেন। এরপর থেকেই তাঁর গদি টলমল করছিল। অবশেষে চাপের মুখে গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন বীরেন। তারপর প্রাথমিকভাবে ছ’মাসের জন্য মণিপুরে জারি করা হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। কিন্তু পরে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তবে আপাতত কিছুটা শান্ত রয়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানে শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ। সূত্রের খবর, মণিপুরে আর রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না। এদিকে মণিপুরে শেষ সরকারের বিধানসভার মেয়াদ ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত ফলে বিধায়করা চাইছেন একবছরের জন্য হলেও সরকার গঠন করা হোক সেখানে।
