বাংলার মহিলাদের ঘরে ঘরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দেওয়া 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' নিয়ে বিরোধীরা কম হাসিঠাট্টা করে না। বিশেষত বিজেপি। মাসে মাসে ১৫০০ টাকাকে 'ভিক্ষার দান' বলে কটাক্ষ করেন তাঁরা। অথচ মহিলাদের হাতে অর্থ জোগানোর মতো প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েই একাধিক রাজ্যে সরকার গড়তে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া ব্রিগেড। ক্ষমতায় আসার পর অবশ্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিস্মৃত হয়েছে তারা। খোদ রাজধানী দিল্লিতেই এখনও চালু হল না 'মহিলা সম্মান যোজনা'! সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পদে একজন মহিলা থাকা সত্ত্বেও মহিলাদের হাতে এখনও পৌঁছল না প্রতিশ্রুতির ২৫০০ টাকা। তৃণমূলের কটাক্ষ, এটাই বিজেপির 'জুমলাবাজি'।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপকে ক্ষমতাচ্যুত করে ২০২৫ সালের বিধানসভা ভোটে জিতে এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন দলের দীর্ঘদিনের নেত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি কুর্সিতে বসে শর্তসাপেক্ষে মহিলাদের মাসে মাসে ২৫০০ টাকা ভাতা ঘোষণা করেছিলেন। তার গালভরা নাম দেওয়া হয় 'মহিলা সম্মান যোজনা'। পরিবারের মাসিক আয় যাদের আড়াই লক্ষ টাকার কম, সেসব পরিবারের সদস্য ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি মহিলারা মাসে ২৫০০ টাকা পাবেন, এই শর্তে মহিলা সম্মান যোজনা ঘোষণা করা হয়েছিল। তারও সমালোচনা হয়েছিল। কারণ, বাংলায় ধনী-দরিদ্র-মধ্যবিত্ত নির্বিশেষে সকল মহিলাই এই প্রকল্পের আওতায় ভাতা পান। কথা ছিল, আন্তর্জাতিক নারী দিবস, ৮ মার্চ থেকে তা চালু হবে। কিন্তু নির্ধারিত দিন দূরঅস্ত, রেখা গুপ্তার ওই প্রতিশ্রুতির পর বছর গড়িয়ে যেতে চলল। কিন্তু দিল্লির কোনও মহিলা হাতে ওই টাকা পাননি।
শুধু দিল্লি নয়, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের আদলে মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বী করার কথা দিয়ে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। হিমাচল প্রদেশের কংগ্রেস সরকারও এমন এক প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু দেওয়া কথা কতটা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত কাজ হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের অর্থ বাড়ানোর ঘোষণা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তা চলতি মাস থেকেই চালু হয়ে যাবে। এ বিষয়ে কোনও দেরি নয়। সেইমতো ফেব্রুয়ারি থেকেই ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন মহিলারা। এত দ্রুত এভাবে প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার নজির খুব কমই আছে।
সেদিক থেকে ঠিক উলটো নজির রেখেছে বিজেপি। বিবিধ প্রকল্প চালু থাকলেও তার সুবিধা কতজন পান, তার হিসেব পাওয়া দায়। যেমনটা হল দিল্লির ক্ষেত্রে। সেখানে ঘোষিত প্রকল্প চালুই হল না এখনও।
