সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার। সোমবার তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। মামলাটি পুনরায় ফেরত পাঠানো হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে কুলদীপের আবেদনের শুনানি ছিল। কিন্তু মামলাটি শুনতেই চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। খারিজ হয়ে যায় কুলদীপের জামিনের আবেদন। এরপরই আদালত মামলাটিকে দিল্লি হাই কোর্টে ফেরত পাঠায়। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে উচ্চ আদালতকে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কুলদীপের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলকে ১০ বছর সাজা দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে তিনি সাত বছর সাজা কাটিয়ে ফেলেছেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। উল্লেখ্য, সাজা স্থগিতের আবেদন করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কুলদীপ। কিন্তু তার আবেদন খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। এরপরই গত ১৯ জানুয়ারি দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কুলদীপ।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৪ জুনে গণ-ধর্ষিতা হন উন্নাওয়ের কিশোরী। মূল অভিযুক্ত ছিল তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার। পরিবার পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি বলে অভিযোগ ছিল। পরে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লেখেন নির্যাতিতা। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। সেখানেই গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন নির্যাতিতা। এই ঘটনার পর উলটে নির্যাতিতার বাবাকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার বাবার। একই বছর ডিসেম্বর মাসে দোষী সাব্যস্ত হয় কুলদীপ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ এবং পকসো আইনে দোষী সাব্যস্ত করা হয় কুলদীপকে। বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেনেগারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
