দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে তাঁকে 'বস' বলে সম্বোধন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং থেকে শুরু করে বিজেপির তাবড় তাবড় নেতা সকলেই তাঁর নির্দেশে কাজ করতে বাধ্য। অথচ বিজেপির সদ্য নির্বাচিত সভাপতি নীতীন নবীন কাজ করবেন সাধারণ বিধায়ক হিসাবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্যসভায় যাওয়ার একাধিক সুযোগ থাকলেও তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে যাবেন না। অন্তত তেমনটাই সূত্রের খবর।
নীতীন এই মুহূর্তে বিহারের বিধায়ক। কিছুদিন আগে পর্যন্ত সে রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। দলের কার্যকরী সভাপতি হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। কিন্তু বিধায়ক পদ ছাড়েননি। শোনা যাচ্ছে সেই পদ ছাড়বেনও না। বিহারে আসন্ন বাজেট অধিবেশনে বিধানসভায় যোগও দিতে পারেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। সেটা হলে বেনজির কাণ্ড হবে। যদিও নীতীন অধিবেশনে যোগ দেবেন কিনা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি বিধায়ক পদ এখনই ছাড়বেন না বলেই শোনা যাচ্ছে।
বিজেপির সদ্য নির্বাচিত সভাপতি নীতীন নবীন কাজ করবেন সাধারণ বিধায়ক হিসাবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্যসভায় যাওয়ার একাধিক সুযোগ থাকলেও তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে যাবেন না।
সচরাচর যে কোনও দলের বড় নেতারা একবার শীর্ষস্তরে নির্বাচিত হয়ে গেলে রাজ্য রাজনীতিতে থাকেন না। তাঁরা দিল্লির রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। সারা দেশের রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। সেক্ষেত্রে রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে যোগ দেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু সুযোগ থাকলেও নীতীন নবীন সে পথে হাঁটবেন না বলেই খবর। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিজেপি অন্তত ৩৫ জনকে রাজ্যসভায় পাঠাবে। তাঁদের মধ্যে নীতীনের নাম থাকবে না। বিজেপি সূত্র সেটার কারণও ব্যাখ্যা করছে।
নীতীন নবীনের সঙ্গে মোদি। ফাইল ছবি।
অতীতে অমিত শাহ যখন বিজেপি সভাপতি নিযুক্ত হলেন, তখনও তিনি গুজরাটের বিধায়ক ছিলেন। বেশ কিছুদিন পরে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েও গুজরাটের বিধায়ক পদ ধরে রাখেন তিনি। কারণ সে সময় গুজরাটে দলের নেতৃত্ব বদল প্রক্রিয়া চলছিল। তাই গোটা প্রক্রিয়ায় রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকেই নজরদারি চালাতে চাইছিলেন শাহ। গুজরাটের পরিস্থিতি সুস্থিত হওয়ার পর তিনি রাজ্যসভায় যান। নীতীন নবীন বিহারের নেতা। যে রাজ্যে স্রেফ যোগ্য মুখের অভাবে নীতীশ কুমারের নেতৃত্ব বারবার মেনে নিতে হচ্ছে। তাই বিজেপি চাইছে নীতীনকে বিহারের বিজেপির মুখ হিসাবে তুলে ধরতে। সেজন্য তাঁর রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে থাকা জরুরি। আপাতত সেকারণেই রাজ্যসভায় না গিয়ে বিধায়ক পদটি ধরে রাখছেন বিজেপির সভাপতি। অবশ্য পরে সেই সিদ্ধান্তে বদল আসতে পারে।
