এজলাসে বসে একসময় ‘সাধারণ মানুষের মসিহা’ হয়ে উঠেছিলেন। বিচারপতি থাকাকালীন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে একাধিক বিতর্কও উসকে দিয়েছিলেন। অথচ বিজেপির সাংসদ হওয়ার পর থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের মানুষের প্রত্যাশা আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
২০২৪ সালে অষ্টাদশ লোকসভার সূচনালগ্ন থেকে প্রায় দু’বছর কেটে গেলেও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সংসদে একটিও লিখিত প্রশ্ন করেননি। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের ভোটে জিতে সংসদে গেলেও তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান বা কৃষি সমস্যা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। একই জেলার পূর্ব কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীও বিগত প্রায় দু’বছরে লিখিত প্রশ্ন করেছেন মাত্র ১৫টি।
তবে প্রশ্ন উঠছে অভিজিতের ভূমিকা নিয়েই। কারণ বিচারপতি হিসাবে জনস্বার্থের প্রশ্নে সরব থাকলেও সাংসদ হিসাবে তাঁর নীরবতা তমলুকের মানুষের প্রত্যাশাকে ধূলিসাৎ করেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। লোকসভায় সাংসদ হিসাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন না করলেও অভিজিৎকে দলের পক্ষ থেকে অবশ্য দু’বার বলার সুয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সাংসদ হওয়ার পরপরই প্রথম ভাষণে কংগ্রেস সাংসদকে ‘স্টুপিড’ বলায় তীব্র বিতর্কে জড়ান। তাতে প্রতিবাদ ওঠে বিরোধী বেঞ্চ থেকে। পরে স্পিকারের নির্দেশে লোকসভার কার্যবিবরণী থেকে অভিজিতের সেই মন্তব্য বাদ দেওয়া হয়। আবার গত বছরেও শেষদিকে শীতকালীন অধিবেশনে লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নাম ভুল করে ‘আমাদের দেশে এখন এক জন প্রধানমন্ত্রী আছেন, তাঁর নাম নরেন্দ্র বাজপেয়ী’ বলে মন্তব্য করে সমাজমাধ্যমে হাসির খোরাক হন।
শুধু পূর্ব মেদিনীপুরই নয়। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সবথেকে বেশি আসন যে উত্তরবঙ্গ থেকে পেয়েছিল সেখানকার সাংসদদেরও নিজেদের এলাকার কথা সংসদে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অনীহা স্পষ্টতই দৃশ্যমান। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা ২০২৪ সাল থেকে লোকসভায় করেছেন মাত্র দু’টি লিখিত প্রশ্ন। রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পাল প্রায় দু’বছরে করেছেন মাত্র পাঁচটি প্রশ্ন। আবার সেই উত্তরবঙ্গ থেকেই বাংলায় স্বাধীনতার পর প্রথমবার বিজেপির প্রাপ্ত রাজ্যসভা আসনে নগেন্দ্র রাই ওরফে অনন্ত মহারাজকে পাঠিয়েছিল বিজেপি। তিনিও ২০২৩ সালের আগস্টে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় তিন বছরে মাত্র একটি লিখিত প্রশ্ন করেছেন।
এই পরিসংখ্যানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে এই সমস্ত সাংসদদের নিজেদের এলাকার মানুষের সমস্যার প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে। তবে বাংলার বিজেপি সাংসদদের মধ্যে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ খগেন মুর্মু প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ডবল সেঞ্চুরি পেরিয়েছেন। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর লিখিত প্রশ্নের সংখ্যা ২২০। একইভাবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর থেকে ১৮৫টি লিখিত প্রশ্ন করেছেন। দার্জিলিঙ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপির সাংসদ রাজু বিস্তাও ১১০টি লিখিত প্রশ্ন করে সেঞ্চুরি পার করেছেন।
