shono
Advertisement
Vande Mataram

'এভাবে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না', 'বন্দে মাতরম' বাধ্যতামূলকের নির্দেশে ফুঁসে উঠল বিজেপির জোটসঙ্গীই

দেশজুড়ে সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করতে গিয়ে নিজেদের জোটসঙ্গীর কাছেই প্রত্যাখ্যাত হতে হল বিজেপিকে। হিন্দু দেবদেবীদের আরাধনায় নারাজ বিজেপির শরিক।
Published By: Subhajit MandalPosted: 02:53 PM Mar 09, 2026Updated: 02:53 PM Mar 09, 2026

ঘরেই বিবাদ। দেশজুড়ে সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করতে গিয়ে নিজেদের জোটসঙ্গীর কাছেই প্রত্যাখ্যাত হতে হল বিজেপিকে। নাগাল্যান্ডের শাসক দল নাগা পিপলস ফ্রন্ট জানিয়ে দিল, এভাবে সম্পূর্ণ অজানা, অচেনা, হিন্দু দেবদেবীদের আরাধনার গান নাগাল্যান্ডের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এনপিএফের বক্তব্য, এটা ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ ধারণার পরিপন্থী।

Advertisement

গত মাসেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে ঘোষণা করা হয়, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে, সব স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশনের পরই বাজাতে হবে ‘বন্দে মাতরম’। সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে, সব স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশনের পরই বাজাতে হবে ‘বন্দে মাতরম’। যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উপস্থিতি থাকেন সেখানে তিনি আসা ও যাওয়ার সময় পরিবেশন করতে হবে এই গান। এই গান বাজাতে হবে পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক তথা নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও। এই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এবার ‘বন্দে মাতরম’-এর ছটি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের অধিবেশনে গানটির চারটি স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কেন্দ্রের ওই সিদ্ধান্তের প্রবল সমালোচনা শুরু করেছে খোদ বিজেপিরই জোটসঙ্গী। নাগাল্যান্ডের শাসকদল এনপিএফের সাফ কথা, নাগাল্যান্ডের মানুষের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা এক গান ও সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া নজিরবিহীন এবং এটি ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী। এই নির্দেশ নাগা জনগণের ধর্মীয় আচার-অনুশীলন, সামাজিক রীতি ও প্রথাগত আইনকে সুরক্ষা প্রদানকারী সংবিধানের ৩৭১(এ)-ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।

আসলে নাগাল্যান্ডের জনসংখ্যার সিংহভাগ খ্রিস্টান। ফলে বন্দে মাতরমের হিন্দু দেবদেবীদের আরাধনায় তাঁদের আপত্তি আছে। এনপিএফের তরফে বলা হচ্ছে, এই গানে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে, যা খ্রিস্টান ধর্মের একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই কেন্দ্রীয় সরকারকে এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখতে হবে। নাগাল্যান্ডের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন এনএসএফ জানিয়েছে, বন্দে মাতরম গানের মধ্যে হিন্দু দেবদেবীর উপাসনা, মন্দির তৈরির উল্লেখ রয়েছে, যা নাগাল্যান্ডের খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এনপিএফই নাগাল্যান্ডের শাসক। তারা বলছে, আপাতত নাগাল্যান্ডে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement