প্রায় ৮০০ বছরের প্রাচীন একটি শিব মন্দির ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গল জেলায়। অভিযোগ, মন্দিরটি ভেঙে একটি স্কুল নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ‘ঐতিহ্য ধ্বংসে’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে বিতর্কের মুখে হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্র।
জানা গিয়েছে, মন্দিরটি ভাঙার পরই রামা রাও নামে তেলঙ্গানার এক আইনজীবী 'ন্যাশনাল মনুমেন্টস অথরিটি'র দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রক এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ইতিমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রামার দায়ের করা অভিযোগে, বলা হয়েছে, তেলঙ্গানা হেরিটেজ আইনের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই মন্দিরটি ভেঙে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ওই আইনজীবী দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করতে হবে।
খানাপুর মণ্ডলের অন্তর্গত অশোক নগর গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি। স্থানীয় সূত্রে খবর, এটি কাকতীয় যুগে গণপতি দেবের রাজত্বকালে নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের একটি স্কুল নির্মাণ প্রকল্পে ভূমি সমতল করার সময় মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপরই এলাকায় ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় প্রতিবাদও। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পুনরুদ্ধারের জন্য বারবার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। প্রতিবাদী এক গ্রামবাসীর প্রশ্ন, “প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ঐতিহাসিক এই মন্দির কীভাবে ভেঙে ফেলা হল?”
গোটা বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক রানা প্রতাপ রেড্ডি ঘটনাটির নিন্দা করেন। মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রাক্তন বিআরএস বিধায়ক পেদ্দি সুদর্শন রেড্ডিও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের আড়ালে তেলেঙ্গানার ঐতিহ্যকে অবহেলা করছে।
বিতর্কের মুখে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা শাসক সত্য শারদা এবং নার্সামপেটের বিধায়ক ডন্থি মাধব রেড্ডি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মাধব বলেন, "স্কুল নির্মাণের জন্য জমিটি আদর্শ। সেই জন্যই জমিটিকে নির্বাচন করা হয়। কিন্তু সার্ভের সময় কর্মকর্তারা মন্দিরটি লক্ষ্য করেননি।" তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, যথা স্থানেই শিব মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি, স্কুলটিও তৈরি হবে।
