লাদাকে চিনা আগ্রাসন ইস্যুতে উত্তাল সংসদ। সংসদে অপ্রকাশিত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করে বিপাকে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রাহুলের ওই বক্তব্যে ফুঁসে উঠলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এভাবে অপ্রকাশিত কোনও গ্রন্থ থেকে কাউকে উদ্ধৃত করা যায় না, বিরোধী দলনেতাকে সংসদের নিয়মাবলির পাঠ দিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। সব মিলিয়ে জোর বিতর্ক।
সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলছে। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের জবাবে এদিন রাহুল গান্ধী লাদাখ প্রসঙ্গ তোলেন। বিরোধী দলনেতার দাবি, ২০২০-তে গালওয়ান কাণ্ডের আগে থেকেই লাগাতার চিনের কাছে জমি হারাচ্ছে ভারত। অথচ সরকার নীরব। নিজের বক্তব্য প্রমাণ করতে গিয়ে শুরুতেই রাহুল প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত জীবনী গ্রন্থ থেকে একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বিরোধী দলনেতা বলেন, "জেনারেল নারাভানে বলছেন, কৈলাশ রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতের অবস্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল...।"
এর পর আর কিছু বলতে দেওয়া হয়নি রাহুলকে। বিরোধী দলনেতা এতদূর বলার পরই চড়া সুরে প্রতিবাদ শুরু করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শাসক শিবির থেকে শুরু হয় চিৎকার। পালটা দেয় বিরোধী বেঞ্চও। রাজনাথ দাবি করেন, "সংসদে এমন কোনও গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা যায় না যেটা প্রকাশিতই হয়নি।" রাহুল দাবি করেন, "যে উৎস থেকে এই বই তিনি পেয়েছেন সেটা ১০০ শতাংশ বিশ্বাসযোগ্য।" তাতে পালটা রাজনাথ সেই একই প্রশ্ন করেন, "বইটি কি প্রকাশিত হয়েছে? অপ্রকাশিত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা যায় না।"
এরপর আসরে নামেন স্পিকার। রাজনাথের বক্তব্যকেই সমর্থন করেন তিনি। স্পিকার বলেন, "এই সদনে কোনওরকভাবে কোনও সংবাদ, বা বই নিয়ে আলোচনা হয় না। আর যে বই প্রকাশিত হয়নি সেটা নিয়ে বলার অনুমতি দেওয়া যায় না।" যার ফলে রাহুল যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি তোলার চেষ্টা করছিলেন সেটাই চাপা পড়ে যায়।
