আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মণিপুরে শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ। তার আগে তড়িঘড়ি দিল্লিতে তলব করা হল উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের এনডিএ বিধায়কদের। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একটি বৈঠকে যোগ দিতে রবিবারই তাঁরা দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু কী নিয়ে এই বৈঠকটি রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। এরপরই জল্পনা শুরু হয়েছে মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসনের পর তাহলে কি নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুত শুরু হয়ে গেল?
চাপের মুখে গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন বীরেন। তারপর প্রাথমিকভাবে ছ’মাসের জন্য মণিপুরে জারি করা হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। কিন্তু পরে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
২০২৩ সালের ৩ মে মণিপুরে শুরু হয় মেতেই-কুকি সংঘর্ষ। সেই থেকেই উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব রাজ্যটি। মণিপুরের হিংসা থামাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং-এর বিরুদ্ধে। বারবার গর্জে উঠেছিল বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে ২০২৪-এর শেষ দিন মণিপুরে রক্তক্ষয়ী হিংসার জন্য রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন বীরেন। এরপর থেকেই তাঁর গদি টলমল করছিল। অবশেষে চাপের মুখে গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন বীরেন। তারপর প্রাথমিকভাবে ছ’মাসের জন্য মণিপুরে জারি করা হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। কিন্তু পরে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তবে আপাতত কিছুটা শান্ত রয়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানে শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ। সূত্রের খবর, মণিপুরে আর রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না। সুতরাং নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির জন্যই মণিপুরের এনডিএ বিধায়কদের তড়িঘড়ি তলব করা হল?
হিংসা-বিধ্বস্ত মণিপুর। ছবি: পিটিআই।
রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ইম্ফল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বীরেন বলেন, "সোমবার দিল্লিতে একটি জরুরি বৈঠক রয়েছে। মণিপুরের সমস্ত এনডিএ বিধায়কদের সেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গিয়েছে। এবার এনডিএ বিধায়কদের তলব করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকার গঠনের জন্যই বৈঠকে ডাকা হয়েছে।"
