shono
Advertisement
Nirmala Sitharaman

বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে আমেরিকাকে টেক্কা ভারতের, মাস্ককে অস্ত্র করে বিরোধীদের তোপ নির্মলার

নির্মলা বলেন, 'দেশের বিরোধী দলেরও বোঝা উচিত ভারত এই মুহূর্তে ঠিক কতখানি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। হতে পারে আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে চিন ও ভারতের মধ্যে সংখ্যার ফারাক অনেকটাই, কিন্তু আমরা শীঘ্রই উপরে উঠে আসব। আমাদের এই বিশ্বাস থাকা উচিত।'
Published By: Amit Kumar DasPosted: 12:31 PM Feb 02, 2026Updated: 01:47 PM Feb 02, 2026

বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির নিরিখে আমেরিকাকে টপকে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে ভারত। ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের (IMF) সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে ধনকুবের এলন মাস্ক জানিয়েছেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে’। মাস্কের সেই বয়ানকে হাতিয়ার করেই এবার বিরোধী শিবিরকে তুলোধোনা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। জানালেন, 'বিরোধীদের বোঝা উচিত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারত ঠিক কতখানি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।'

Advertisement

সোমবার আইএমএফ ও মাস্কের সেই বার্তা তুলে ধরে সীতারমন বলেন, 'আইএমএফের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের মোট আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে সবার উপরে থাকা চিনের অংশীদারিত্ব ২৬ শতাংশ। সেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের যোগদান ১৭ শতাংশ। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই দুই দেশ মিলিত যোগদান ৪৩ শতাংশ।' এরপরই বিরোধীদের নিশানায় নিয়ে নির্মলা বলেন, 'দেশের বিরোধী দলেরও বোঝা উচিত ভারত এই মুহূর্তে ঠিক কতখানি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। হতে পারে আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে চিন ও ভারতের মধ্যে সংখ্যার ফারাক অনেকটাই, কিন্তু আমরা শীঘ্রই উপরে উঠে আসব। আমাদের এই বিশ্বাস থাকা উচিত।'

অন্যদিকে, মাস্কের বিবৃতি তুলে ধরে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর বয়ান, 'আমি সাধারণত কোনও বিদেশির বয়ানের প্রতিক্রিয়া দিই না। কিন্তু রাহুল গান্ধীকে আসল সত্যটা বোঝাতে মাস্কের বার্তা তুলে ধরলাম, সরকারের সমালোচনা করা অবশ্যই গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু আপনাকে পরামর্শ (বিদেশে) ভারতের অপমান করবেন না, ভারতকে ছোট করবেন না, নিজেকে একজন গর্বিত ভারতীয় হিসেবে গড়ে তুলুন।'

নির্মলা বলেন, 'দেশের বিরোধী দলেরও বোঝা উচিত ভারত এই মুহূর্তে ঠিক কতখানি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। হতে পারে আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে চিন ও ভারতের মধ্যে সংখ্যার ফারাক অনেকটাই, কিন্তু আমরা শীঘ্রই উপরে উঠে আসব। আমাদের এই বিশ্বাস থাকা উচিত।'

২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও তাতে সবচেয়ে বেশি যোগদান রাখা ১০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করে আইএমএফ। সেই রিপোর্টেই দেখা গিয়েছে, ডলারের দেশ আমেরিকাকে ছাপিয়ে বিশ্ব তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। বিশ্বের জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ১৭.০ শতাংশ। আমেরিকার (৯.৯ শতাংশ) ঠাঁই হয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে তাদের যোগদান হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (৩.৮%), তুরস্ক (২.২%), নাইজেরিয়া (১.৫%), ব্রাজিল (১.৫%), ভিয়েতনাম(১.৬%), সৌদি আরব (১.৭%), জার্মানি (০.৯%)।

অর্থাৎ রিপোর্টে স্পষ্ট যে বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক যোগদান হতে চলেছে এশিয়ার দুই দেশ চিন ও ভারতের। যৌথভাবে দুই দেশের যোগদান হতে চলেছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক আর্থিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে চিন ও ভারতে। দীর্ঘ বছর ধরে যার কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ বেষ্টিত। সোশাল মিডিয়ায় এই রিপোর্ট তুলে ধরেই এলন মাস্ক লেখেন, ‘অবশেষে বিশ্বে পরিবর্তিত হচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য।’

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement