সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়িতে নগদ উদ্ধারের ঘটনায় এবার তৎপর হল দেশের সংসদ। এই ইস্যুতে রাজ্যসভার শাসক ও বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টেয় সর্বদল বৈঠকের ডাক দিলেন উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়। অন্যদিকে, এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিচারপতি নিয়োগে কলেজিয়াম ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

সোমবার দিল্লির নগদকাণ্ডে আলোচনার জন্য বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার নেতা জেপি নাড্ডা ও বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেখানে আলোচনার পর এই ইস্যুতে সর্বদল বৈঠক ডাকার বিষয়ে সম্মত হন সকলে। বৈঠক থেকে জগদীপ ধনকড় বলেন, শীঘ্রই বিচারপতি বর্মার বাড়ি নগদ উদ্ধারের ঘটনায় আলোচনার জন্য সর্বদল ডাকা হবে। সর্বদল ডাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছে শাসক ও বিরোধী দুইপক্ষই। ধনকড় আরও বলেন, স্বাধীনতার পর এটা প্রথমবার হল যেখানে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে কোনওকিছু না লুকিয়ে সমগ্র ঘটনা জনসমক্ষে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা যাতে ঠিক নয়। এই অব্যবস্থা শোধরানোর প্রয়োজন। যাতে এমনটা দ্বিতীয়বার না ঘটে। এরপর মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশন চলাকালীন রাজ্যসভা চেয়ারম্যান বিকেল সাড়ে চারটের সময় সর্বদল বৈঠকের ডাক দেন। সব দলের নেতাদের নিয়ে নিজের চেম্বারের এই বৈঠক করবেন চেয়ারম্যান।
এদিকে বিচারপতির বাড়ি নগদ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার সংসদে মুখ খোলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এই ঘটনায় দেশে যেভাবে মিডিয়া ট্রায়াল চলছে তার সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশের বিচারব্যবস্থাকে প্রবলভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। মহুয়া বলেন, বিচারপতির বাসভবনে পুড়ে যাওয়া নোট উদ্ধারের ঘটনায় আপাতত তাঁকে বিচার প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আর সংবাদমাধ্যম এই ইস্যুকে নিয়ে মেতে উঠেছে। বিচারপতিদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এবং কীভাবে বিচারপতিদের নিয়োগের উপর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। মহুয়ার মতে এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটন নয়, বরং সরকারের দখলদারি করার মানসিকতার একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।
উল্লেখ্য, বিচারপতি নিয়োগে বিচারব্যবস্থায় রয়েছে নিজস্ব কলেজিয়াম প্রক্রিয়া। তবে এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবি সরকারের তরফে উঠেছে বারবার। তবে দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের দাবিকে কখনই গুরুত্ব দেয়নি। মহুয়ার অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের একাংশ এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে যাতে এই কলেজিয়াম ব্যবস্থা উঠিয়ে 'ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্ট কমিশন' (এনজেএসি)-র মতো কিছু একটা ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা যায়। একইসঙ্গে বলেন, 'এই সভায় তাঁর নাম উল্লেখ করা যাবে না, যিনি পার্শ্ববর্তী সভার সভাপতিত্ব করেন, তিনি ইতিমধ্যেই মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন কীভাবে সরকারের বর্তমান কলেজিয়াম ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেওয়া উচিত।'