সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লি হাই কোর্টের বিতর্কিত বিচারপতি যশবন্ত বর্মাকে ফের এলাহাবাদ হাই কোর্টে ট্রান্সফার করা হবে কিনা, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই বিচারপতি বর্মাকে নিয়ে নিজেদের সুপারিশপত্র পাঠিয়ে দিয়েছে কলেজিয়াম। সেটার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে মোদি সরকার।

যশবন্তকে এলাহাবাদ হাই কোর্টে ট্রান্সফার করার প্রতিবাদে সরব হয়েছে সেখানকার বার অ্যাসোসিয়েশন ও আইনজীবীরা। তাঁকে সরাসরি নির্বাসন এবং ফৌজদারি মামলা দায়ের করে তদন্তের দাবিও উঠছে। বিচারপতির বদলির বিরুদ্ধে চিঠি লিখে সরব হয়েছেন দেশের ছয় রাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান। বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানদের দাবি, বদলি নয়, বিচারপতি বর্মাকে সব কাজ থেকে সরাতে হবে। ওই বিচারপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম কেন্দ্রকে নিজেদের সুপারিশ পাঠিয়ে দিয়েছে। এবার কেন্দ্রই ঠিক করবে বিচারপতি বর্মাকে শাস্তিস্বরূপ এলাহাবাদ হাই কোর্টে বদলি করা হবে, নাকি তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনও পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, দোলের ছুটি চলাকালীন বিচারপতি বর্মার বাড়িতে আগুন লাগে। তখনই তাঁর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ পান দমকল কর্মীরা। এরপর বিচারপতির বাড়ির কাছে রাস্তা থেকেও পাঁচশো টাকার পোড়া নোট উদ্ধার হয়। এখনও পর্যন্ত ওই অর্থের উৎস জানা যায়নি। এই ঘটনায় হইচই শুরু হওয়ার পর ২০ ও ২৪ মার্চ দুটি আলাদা বৈঠকের বিচারপতি বর্মাকে দিল্লি হাই কোর্ট থেকে এলাহাবাদ হাই কোর্টে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। যদিও বেঁকে বসে এলাহাবাদ হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন। এলাহাবাদ হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অনিল তিওয়ারির বক্তব্য, বিচারপতি বর্মাকে কোনও আদালতেই বদলি করা উচিত হবে না। বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানদের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি খান্না জানান, তাঁদের দাবিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এরপরই সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম নিজেদের সুপারিশ কেন্দ্রকে পাঠিয়েছে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই কেন্দ্র দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে সূত্রের খবর। কলেজিয়ামের সুপারিশ নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে আইনমন্ত্রক।