সমকামী, রূপান্তরকামী এবং যৌনকর্মীদের রক্তদানে নিষেধাজ্ঞার নীতি সঠিক, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। এই বক্তব্যের পক্ষে বিশেষজ্ঞ কমিটির হলফনামা পেশ করে তারা। সরকারের বক্তব্য, রক্তদানের সময় এইচআইভি ও হেপাটাইটিসের মতো রোগের সংক্রমণ রুখতে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এর সঙ্গে সামাজিক বৈষম্যের সংযোগ নেই বলেও দাবি করা হয়।
সমকামী, রূপান্তরকামী এবং যৌনকর্মীদের রক্তদানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্দেশিকা দিয়েছিল কেন্দ্র। যা নিয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ওই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। কেন এই ধরনের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। শুক্রবার মামলা ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে। শুনানিতে বিচারপতিদের বেঞ্চে প্রশ্ন তোলে, দেশে লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষ বিনামূল্যের রক্তের উপর নির্ভরশীল। তাঁদের বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সাধ্য নেই। সেখানে এই নিষেধাজ্ঞা কতটা যুক্তিযুক্ত?
কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন রূপান্তকামী অধিকার কর্মী থাংজম সান্টা সিং। তাঁর আইনজীবী নিশ্চিত করেন, রক্তদান করলে সেই রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন রূপান্তকামী অধিকার কর্মী থাংজম সান্টা সিং। তাঁর আইনজীবী নিশ্চিত করেন, রক্তদান করলে সেই রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এইচআইভি ও নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্ট করা হয়। তাহলে সংক্রমণের প্রশ্ন উঠছে কেন? তিনি যুক্তি দেন, যদি বিসমকামী বিবাহিত মানুষ রক্তদান করতে চান তবে কি তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হবে কবে তিনি শেষবার সুরক্ষা ছাড়াই যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলেন? থাংজমের আইনজীবী স্পষ্ট করেন, ঝুঁকি থাকে সুরক্ষা ছাড়া যৌন প্রক্রিয়ায়, ব্যক্তির যৌন পরিচয়ে নয়।যদিও সরকারের দাবি, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে সমকামী, রূপান্তরকামী এবং যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় ৬ থেকে ১৩ গুণ বেশি। তাই রক্তদানের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিতর্কের সূত্রপাত ২০১৭ সালে। সেসময় রক্তদান নিয়ে একটি নির্দেশিকা দিয়েছিল কেন্দ্র। যেখানে বলা হয়, রূপান্তরকামী, সমকামী পুরুষ এবং মহিলা যৌনকর্মীরা রক্তদান করতে পারবেন না। রক্তদানে উপযুক্তদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় তাঁদের। কারণ হিসাবে বলা হয়, এই তিন ধরনের মানুষের রক্ত থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। যৌনরোগ ছড়ানোর সম্ভাবনাও থেকে যায়। এই বিজ্ঞপ্তির পরই বিতর্ক শুরু হয়। নিষেধাজ্ঞার পক্ষে হলফনামা পেশ করে কেন্দ্রীয় বুঝিয়ে দিল আপাতত নির্দেশিকা বহাল থাকবে দেশে।
