চিন সীমান্ত সংলগ্ন স্পর্শকাতর 'চিকেনস নেক'-এর নিরাপত্তা বৃদ্ধি। পাশাপাশি যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা দূর করে সিকিমের পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত করতে সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে শেষ করার আর্জি নিয়ে সরব হলেন সিকিমের সাংসদ ইন্দ্র হাং সুব্বা। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত মেল্লি-ডেনটাম রেল প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবিও তুলেছেন।
সাংসদ সুব্বা জানান, এই রেল পরিকাঠামো শুধুমাত্র সিকিমের পর্যটন ও অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না। 'চিকেনস নেক'-এর নিরাপত্তাকেও সুদৃঢ় করবে।
গত কয়েকদিন আগে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ‘জোনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটি’ (জেডআরইউসিসি)-র বৈঠকে সাংসদ সুব্বা সিকিমের জন্য রেল সংযোগের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের উপর আলোকপাত করেন। তিনি জানান, সেবক-রংপো রেললাইন হিমালয়ের কোলে রাজ্যটিকে প্রথম রেলপথে জুড়তে চলেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রেলের হাত ধরে পর্যটন, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নত হবে। পাশাপাশি স্পর্শকাতর চিকেনস নেকের নিরাপত্তাও বাড়বে। সাংসদ প্রস্তাবিত মেল্লি-ডেন্টাম রেলওয়ে প্রকল্পের জন্য ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’ এবং ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ দ্রুত শেষ করার আবেদন রাখেন। প্রকল্পের কাজ যেন অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়া এগিয়ে নেওয়া হয় সেদিকে রেল কর্তাদের সতর্ক থাকতে বলেন।
সাংসদ জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চ্যালেঞ্জিং রেল পরিকাঠামোর মধ্যে অন্যতম ৪৪.৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেবক-রংপো রেল প্রকল্প। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে। এই রেলপথের মোট দৈর্ঘ্যের মধ্যে ৪১.৫৫ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গ এবং ৩.৪১ কিলোমিটার সিকিম রাজ্যের মধ্যে রয়েয়। রেলপথে ১৪টি সুড়ঙ্গ পুরো রেলপথের প্রায় ৮৬ শতাংশ এলাকা। পাশাপাশি ১৩টি বড় সেতু এবং কয়েকটি ছোট সেতু রয়েছে। প্রকল্পটির অধীনে থাকবে পাঁচটি স্টেশন--সেবক, রিয়াং, তিস্তা বাজার, মেল্লি এবং রংপো। সাংসদ সুব্বা জানান, এই রেল পরিকাঠামো শুধুমাত্র সিকিমের পর্যটন ও অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না। 'চিকেনস নেক'-এর নিরাপত্তাকেও সুদৃঢ় করবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তিনি রেল মন্ত্রক ও নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবেন।
