সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বছরে একধাক্কায় অনেকটা বাড়তে চলেছে বিড়ি-সিগারেট-গুটকা-সহ অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের। এই পণ্যগুলির উপর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার কথা কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, সেটা কার্যকর হতে চলেছে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। বিজ্ঞপ্তি জারি করে এমনটাই জানিয়ে দিল মোদি সরকার।
বুধবার মোদি সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই তামাকজাত পণ্যের উপর নতুন জিএসটি কার্যকর হচ্ছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার বিড়ি-সিগারেট তথা অন্যান্য তামাকজাত পণ্যকে ‘পাপ পণ্য’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। জিএসটি-র নতুন কাঠামোয় এগুলিই হতে চলেছে সবথেকে দামি পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে, তামাক, গুটখা, পান মশলা, মদ এবং কোল্ডড্রিঙ্কের মতো সামগ্রী। গত ডিসেম্বরেই সংসদে দুটি পৃথক বিল পাশ হয়েছিল। সেই বিলের মাধ্যমেই পানমশলা উৎপাদনে নতুন সেস এবং তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি আরোপের পথ প্রশস্ত হয়।
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই ধরনের পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি বসতে চলেছে। সঙ্গে অতিরিক্ত সেসও বসানো হচ্ছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হেলথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস’। এর সঙ্গে জারি হবে অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি। আগে ২৮ শতাংশ করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ সেস ধার্য করা হত। এর ফলে মোট ট্যাক্সের পরিমাণ হত ৫৩ শতাংশ। এবার পর পর তিন ধরনের শুল্ক আরোপের পাশাপাশি জিএসটি বাড়ায় করের পরিমাণটা অনেকটা বাড়ছে। যার ফলে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দাম অনেকটাই বাড়তে চলেছে। কোনও কোনও পণ্যের দাম দ্বিগুণও হয়ে যেতে পারে। তবে বিড়ির ক্ষেত্রে দাম তুলনামূলকভাবে কম বাড়বে। কারণ, বিড়ির ক্ষেত্রে জিএসটি হার রাখা হয়েছে ১৮ শতাংশ।
বিশ্বজুড়ে বহু দেশের সরকার জনকল্যাণের পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য এই ধরণের পণ্যের উপরে বেশি কর আরোপ করে। ভারতে এই ক্ষতিকারক পণ্যগুলির উপরে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ জিএসটি আরোপ করা হয়েছে। এই তামাকজাত পণ্যই ভারতের মোট রাজস্বের ৩ শতাংশ সরকারকে দেয়। এতে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
