এক মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্রের 'ককরোচ' মন্তব্য ঝড় তুলেছিল দেশে। সেই শব্দকে অস্ত্র করেই দেশে জন্ম নিয়েছিল 'ককরোচ জনতা পার্টি'। এই ইস্যুতে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার ও সিবিআইয়ের কাছে জবাব তলব করল শীর্ষ আদালত। ওই জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আদালতের কার্যক্রমের ভিডিও চালাকির সঙ্গে সম্পাদনা করে এবং মন্তব্যটি অর্থ বিকৃত করে তা বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের উদ্দেশ্য এমন ছিল না।
গোটা ঘটনার সূত্রপাত ১৫ মে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চে দিল্লি হাই কোর্টের একটি মামলার শুনানি চলছিল। সেখানেই প্রধান বিচারপতি আদালতের কার্যপ্রণালীর অপব্যবহার ও ওকালতির মানের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেখানেই ভুয়ো আইনজীবীদের উদ্দেশে 'ককরোচ' বা আরশোলা শব্দটি ব্যবহার করেন। তাঁর সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে যুব সমাজকে খেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি। যা পরে নিট প্রশ্ন ফাঁসে জেন জি প্রজন্মের প্রতিবাদকে নেতৃত্ব দেয়।
শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন রাজা চৌধুরী নামে এক আইনজীবী। আদালতকে তিনি বলেন, ১৫ মে-র পর থেকে আদালতের কার্যবিবরণীর নির্বাচিত কিছু অংশ সম্পাদনা (Edit) করে শেয়ার করার ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ইস্যুতেই শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন রাজা চৌধুরী নামে এক আইনজীবী। আদালতকে তিনি বলেন, ১৫ মে-র পর থেকে আদালতের কার্যবিবরণীর নির্বাচিত কিছু অংশ সম্পাদনা (Edit) করে শেয়ার করার ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণকে বিকৃত করে মিম বানানো হচ্ছে। এবং মুনাফা অর্জনের জন্য সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, এর মাধ্যমে বিচারকদের ভাবমূর্তি খুন্ন হচ্ছে। বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। অথচ এই পরিস্থিতিতে টাগাম টানতে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না।
মামলাকারীর তরফে আবেদন জানানো হয়, বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে পরিকল্পিত ভাবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত শব্দগুলিকে বেছে বেছে সম্পাদনা করা হচ্ছে। এর তদন্ত হওয়া উচিত। আরও বলা হয়েছে, যারা আদালতের বক্তব্যকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ফায়দা নিচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হোক। এই মামলার প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার কেন্দ্র ও সিবিআইয়ের জবাব তলব করল শীর্ষ আদালত।
