shono
Advertisement
Thalapathy Vijay

জল্পনার অবসান, 'বিজেপি হটাতে' বিজয়কে সমর্থন ঘোষণা কংগ্রেসের, ক্ষুব্ধ স্ট্যালিন

শেষপর্যন্ত ক্ষমতার মোহে 'পুরনো বন্ধু' স্ট্যালিনকে ধোঁকা দিল কংগ্রেস! তামিলনাড়ুর মসনদ থেকে বিজেপিকে দূরে সরিয়ে রাখতে এই সিদ্ধান্ত, বলছে হাত শিবির।
Published By: Subhajit MandalPosted: 10:50 AM May 06, 2026Updated: 10:50 AM May 06, 2026

শেষপর্যন্ত ক্ষমতার মোহে 'পুরনো বন্ধু' স্ট্যালিনকে ধোঁকা দিল কংগ্রেস! তামিলনাড়ুর মসনদ থেকে বিজেপিকে দূরে সরিয়ে রাখতে সুপারস্টার থলপতি বিজয়কেই সমর্থন করার সিদ্ধান্ত হাত শিবিরের। কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালের দাবি, বিজয়ই প্রথম তাঁদের সমর্থন চেয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে কংগ্রেস যে বিজয়কে সমর্থন করবে, সেটা নিশ্চিত করেছেন বেনুগোপাল।

Advertisement

জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ফলাফল হয়েছে তামিলনাড়ুতে। একক বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে এসেছে টিভিকে। তামিলভূমে ১০৮টি আসন জিতেছে বিজয়ের দল। অল্পের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি তারা। কংগ্রেস-ডিএমকে জোটের ঝুলিতে গিয়েছে ৭৩টি আসন। এআইএডিএমকে জোট পেয়েছে ৫২টি আসন। সূত্রের খবর, সমর্থন পেতে বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি, সিপিএম, সিপিআই, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) মতো দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিজয় নিজেই। কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিএম এবং আইইউএমএল – সবকটি দলই বর্তমানে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেকুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (এসপিএ)-এর অংশ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেস জিতেছে ৫টি আসন, আইইউএমএল, সিপিআই, সিপিএম এবং ভিসিকে প্রত্যেকেই জিতেছে ২টি করে আসন। ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ুর বিধানসভায় জাদু সংখ্যা ১১৮। যদি সিপিএম-কংগ্রেস এবং অন্যান্য দলগুলি টিভিকের সঙ্গে হাত মেলায় তাহলে দ্রাবিড়ভূমের মসনদে বসতে অসুবিধা হবে না বিজয়ের। দক্ষিণী রাজ্যে তাহলে ফের তৈরি হবে অবিজেপি সরকার।

কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা ছিল, কংগ্রেস কি পুরনো বন্ধু ডিএমকে-র হাত ছেড়ে বিজয়ের হাত ধরবে? তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস এবং ডিএমকের জোট বহু পুরনো। খারাপ সময়ে কংগ্রেসের পাশে থেকেছে ডিএমকে। সেখান থেকে রাতারাতি শিবির বদল সম্ভব ছিল না হাত শিবিরের পক্ষে। কিন্তু সমস্যা হল, ডিএমকে নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন তামিলনাড়ুর স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের একাংশ। ক্ষোভের মূল কারণ – অসম্মান। সে রাজ্যে ডিএমকে কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় থাকাকালীনও সরকারে কংগ্রেসের কোনও অংশিদারিত্ব ছিল না। স্থানীয় পুরসভা, বিভিন্ন উন্নয়ন বোর্ডেও কংগ্রেস নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হত না। এমন বিবিধ অভিযোগ তুলে ডিএমকের সঙ্গ ছাড়ার বার্তা দিচ্ছিলেন অনেক নেতা। সেই অংশটি চাইছিল ভোটের আগেই স্ট্যালিনকে ছেড়ে বিজয়ের হাত ধরতে। এমনকী রাহুল গান্ধী নিজেও বিজয়ের হাত ধরার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু দলের অন্য নেতাদের চাপে ভোটের আগে সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ভোটের পর সেসব বাধা কেটেছে। কংগ্রেসের আশঙ্কা, এখনই বিজয়কে ইন্ডিয়া জোটে শামিল করে নিতে না পারলে ভবিষ্যতে বিজেপি তার দিকে হাত বাড়াতে পারে। তাই দাক্ষিণাত্যে সরকার গড়তে টিভিকে-কেই সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিল হাত শিবির। সূত্রের দাবি, পাঁচ বিধায়ক বিশিষ্ট কংগ্রেস সে রাজ্যে জোড়া মন্ত্রিত্ব দাবি করতে পারে।

এদিকে কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ডিএমকে। স্ট্যালিনের দলের এক মুখপাত্র বলছিলেন, "আমরা সবসময় কংগ্রেসের পাশে থেকেছি। আর কংগ্রেস এখন আমাদের পিঠে ছুরি মারছে। তাছাড়া বিজয় কোনওদিন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেনি। প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেনি। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের জোট কীভাবে হতে পারে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement