ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানি, হামলাকারীদের রেয়াত করা নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পুলিশ-প্রশাসনকে এই ইস্যুতে কড়া নজরদারির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর আধিকারিকদের এই ব্যাপারে নির্দেশ শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, এবার নির্বাচনে বাংলায় রক্ত ঝরেনি। রাজনৈতিক হিংসায় খুনের ঘটনাও হয়নি। কিন্তু চার মে ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে একাধিক জায়গা থেকে হিংসার ছবি আসছে। পুলিশ আধিকারিক থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ। বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মীদের খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভোট পূর্ব ও পরবর্তী সন্ত্রাসের ঘটনা এবার দেখেনি বাংলা। নির্বাচন কমিশন কড়া নজরদারিতে এবার ভোট করিয়েছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা সফল বলে জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। সোমবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। দেখা যায় ২০৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ফল ঘোষণার পরই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে অশান্তি, হিংসা!
দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে সেই রাতেই। আসানসোল-দুর্গাপুর থেকে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জায়গায় অশান্তির খবর এসেছে। বীরভূম, হাওড়া, রাজারহাটে তৃণমূল-বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা 'খুন'ও হয়েছেন বলে অভিযোগ। উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটে হিংসা থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন থানার ওসি-সহ পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে আছেন দু'জন পুলিশ কর্মী ও দু'জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে লেনিনের মূর্তি ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। গুজব ছড়ানোর চেষ্টাও চলছে বিভিন্ন জায়গায়। পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবে হাতের বাইরে না যায়, হিংসা যাতে বন্ধ হয় সেই বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
প্রসঙ্গত, নতুন রাজ্য সরকার তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বভার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সেই হিসেবে এবার কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না, উস্কানিদাতা এবং ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার-সহ আধিকারিকদের সর্বক্ষণ টহলের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিশনের নির্দেশেই রাজ্যে ভোটের পরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে।
