জনাদেশ বিপক্ষে গিয়েছে। ২০৬ আসনে জিতে বাংলা এখন বিজেপির দখলে। তবে শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না তিনি। এই ঘটনায় মঙ্গলবার মুখ খুললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। রীতিমতো ঝাঁজালো সুরে তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে হিমন্ত বললেন, পদত্যাগ না করলে বরখাস্তই একমাত্র পথ।
মঙ্গলবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া সুরে তোপ দেগে হিমন্ত বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন তবে তাঁকে বরখাস্ত করে দেওয়া হবে। দেশ ওনার খেয়ালখুশি মতো চলবে না। রাজ্যপাল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তারপর ওনাকে বরখাস্ত করবেন। এটা অতি সহজ বিষয়। বাংলার মানুষ অনেকদিন ওঁর শাসন সহ্য করেছেন।"
হিমন্ত বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন তবে তাঁকে বরখাস্ত করে দেওয়া হবে। দেশ ওনার খেয়ালখুশি মতো চলবে না।"
শুধু তাই নয়, বাংলায় দীর্ঘদিনের অপশাসনের অভিযোগ তুলে হিমন্ত আরও বলেন, "ওঁরা বর্ডার সিল করতে দেয়নি। আর এখন দাবি করছে ওঁদের আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলায় যে ফল হয়েছে তা অনেকদিন আগে হওয়া উচিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাদের অনেক কিছু দিয়েছেন। আজ তাঁরা বিজেপিকে রায় দিয়েছেন। আপনারা বলছেন, পদত্যাগ করব না। যেন আপনাদের পদত্যাগের উপর নির্ভর করে সমাজ চলবে!"
৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ২০৭ আসন জিতে এবার বাংলার ক্ষমতার রাশ বিজেপির হাতে, অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। নির্বাচনে হারলেও মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা তো হারিনি। তাহলে আমি কেন ইস্তফা দেব।” জোর করে ইভিএম দখল করে ভোটে জিতেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এখন প্রশ্ন হল, মমতা যদি ইস্তফা দিতে না চান, তাহলে রাজ্যের প্রশাসন কোন পথে এগোবে। নতুন সরকার গঠনই বা হবে কীভাবে? এমনিতে রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। তাই নিয়ম অনুযায়ী, ৭ মের পর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার কথা নয় মমতার। এখন যদি তিনি ইস্তফা দিতে না চান, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করতে পারেন রাজ্যপাল। সেক্ষেত্রে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করতে পারেন রাজ্যপাল।
