দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের পর অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে (Arvind Kejriwal) একপ্রকার বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল কংগ্রেস। হাত শিবিরের অন্দরে ধারণা তৈরি হয়েছিল, আবগারি কেলেঙ্কারিতে কেজরির রাজনীতির যে মূল ইউএসপি, সেই 'সৎ' ভাবমূর্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। দিল্লিতে হারের ফলে তাঁর ক্ষমতার ভরকেন্দ্র নড়বড়ে। ফলে কেজরিওয়াল জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের যে 'ক্ষতি'টা করছিলেন, সেটা আগামী দিনে আর করতে পারবেন না।
কিন্তু শুক্রবার সেই ধারণাই জোরাল ধাক্কা লাগল। দিল্লির আদালতের কেজরিকে নির্দোষ ঘোষণা, তারপর ক্যামেরার সামনে কাঁদতে কাঁদতে নিজেকে 'কট্টর ইমানদার' বলে দাবি করা, দিনভর সংবাদমাধ্যমে কেজরির প্রতি সহমর্মিতা এবং তাঁকে ফাঁসানোর তত্ত্ব ছড়ানো, এসবই আসলে নতুন করে আম আদমি পার্টির ইমেজ বিল্ডিংয়ের চেষ্টা বলে মনে করছে কংগ্রেস। কেজরির মুক্তির পর তৃণমূল-সহ অধিকাংশ বিরোধী দলের দাবি, এভাবেই মিথ্যা মামলাকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুক্রবার কেজরিওয়ালের পাশে দাঁড়িয়েছে অধিকাংশ বিরোধী দলও। তবে ব্যতিক্রম কংগ্রেস। আম আদমি পার্টির অন্যতম শত্রু কংগ্রেসের মতে, এটা গুজরাট ও পাঞ্জাবে নির্বাচনের আগে 'সুবিধাজনক মিত্র'দের পক্ষে বিজেপির 'আগাম সাজানো চিত্রনাট্য'।
আসলে যে সময় আচমকা কেজরিওয়াল গোটা কেলেঙ্কারির কলঙ্ক থেকে মুক্ত হলেন তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী বছর পাঞ্জাব, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, গোয়ায় নির্বাচন। এই রাজ্যগুলিতে আপ বেশ প্রভাবশালী শক্তি। গুজরাটে বিরোধী হিসাবে কংগ্রেসকে সমানে টক্কর দিচ্ছে আপ। কেজরিওয়াল মুক্তি পাওয়ায় সে রাজ্যে আপ গতি পাবে। আরও ভাগাভাগি হবে বিরোধী ভোট। ফলে বিজেপির জন্য ক্ষমতা ধরে রাখার কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে। একই পরিস্থিতি হতে পারে উত্তরাখণ্ড, গোয়ায়। এই রাজ্যগুলিতেও আপ বিরোধী ভোটে ভাগ বসাতে পারে। আর পাঞ্জাবে আপ শাসক দল। তবে পাঁচ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা রয়েছে সে রাজ্যে। তার উপর কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায়, সে রাজ্যে কংগ্রেস আশা দেখছিল। আচমকা আপ সুপ্রিমো সব দায় থেকে মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় এতগুলি রাজ্যে বিজেপর লাlভ হবে বলেই মনে করছে কংগ্রেস। সেকারণেই আপ ও বিজেপির মধ্যে এই অঘোষিত সমঝোতা বলে দাবি হাত শিবিরের।
আবগারি কেলেঙ্কারির দায়মুক্ত হয়ে চোখে জল কেজরির। ফাইল ছবি।
কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের চেয়ারম্যান পবন খেরা একটি টুইটে আপ ও তৃণমূল কংগ্রেসের উল্লেখ করে দাবি করেন যে, বিজেপি কংগ্রেসকে হারানোর জন্য যে কোনও স্তরে নামতে পারে। তাদের লক্ষ্য 'কংগ্রেস মুক্ত ভারত'। এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, 'বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি আকৃতি পরিবর্তনকারী, 'ইচ্ছাধারী নাগ'... ১২ বছর ধরে তারা টিএমসি-র বিরুদ্ধে বিষ ছিটিয়েছে। আর এখন? নরেন্দ্র মোদি নিজেই প্রশংসা করছেন-শ্রদ্ধা থেকে নয়, বরং কংগ্রেসকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য। নির্বাচন আসছে। তাই চিত্রনাট্য আগাম বোঝা যাচ্ছে। কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হঠাৎ করেই ত্বরান্বিত হবে-তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হওয়ায় পি চিদম্বরম ইতিমধ্যেই আলোচনায় ফিরে এসেছেন। গুজরাট ও পাঞ্জাব নির্বাচনের প্রেক্ষিতে আপ এবং অন্যান্যদের মধ্যে তাদের সুবিধাজনক 'মিত্রদের' বিরুদ্ধে মামলাগুলি নীরবে ধামাচাপা দেওয়া হবে। এটা বিজেপির খেলার অংশ। শাসনকাজে প্রতিহিংসা এবং প্রচারের হাতিয়ার হিসাবে তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা।"
