প্রথমে বলেছিলেন হনুমান ছিলেন আদিবাসী। এবার বললেন, ‘আদিবাসীরা হিন্দু নন।’ মধ্যপ্রদেশের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উমং সিংহারের মন্তব্যে ফের বিতর্ক। তাঁর দাবি, আদিবাসীদের জন্য আলাদা ধর্মবিধি তৈরি করতে হবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা অন্য কোনও ধর্মীয় বিধিতে আদিবাসীদের পরিচালনা করা যাবে না। তাঁদের জন্য আলাদা ধর্মীয় বিধি তৈরি করতে হবে।
বস্তুত, মধ্যপ্রদেশের ওই আদিবাসী নেতার দীর্ঘদিনের দাবি, আদিবাসীরা হিন্দুও নন, খ্রিস্টানও নন। তাঁদের স্বকীয় জীবনযাত্রা, ধর্মীয় অনুশীলন, প্রথা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ভাবনাচিন্তা রয়েছে। যা অন্য সব ধর্মের থেকে আলাদা। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই এক ভিন্ন ধর্মের স্বীকৃতির আবেদন করেছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলছেন, আমাদের ধর্মকে সরনা ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। আদিবাসীদের এই ধর্মবিশ্বাসী হিসেবে ধরতে হবে।
সম্প্রতি এক সভায় তিনি বলেছেন, "আদিবাসীদের একজোট হতে হবে। অন্য ধর্মের সঙ্গে মিশে গেলে চলবে না। তাহলে আদিবাসীদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দেবে। ওই প্রবীণ কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, "আমরা যদি অন্য ধর্মে মিশে যায়, তাহলে আমাদের অস্তিত্ব টিকবে কী করে? আমাদের কন্ঠস্বর জোরালো করতে হবে। শুধু মধ্যপ্রদেশ থেকেই ৫০ লক্ষ আবেদন জানাতে হবে। যাতে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাধ্য হন আমাদের লড়াইকে স্বীকৃতি দিতে। ভুলে গেলে চলবে না, আদিবাসীদের নিজস্বতা না থাকলে, আমাদের সংরক্ষণ, অধিকার এমনকী বনভূমির অধিকারও হারাবে। ওই কংগ্রেস নেতার দাবি, ভারতে ১২ কোটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ থাকেন। তাঁদের তপসিলি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তাঁদের ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
কংগ্রেস নেতার ওই মন্তব্যে জোর বিতর্ক মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে। রাজ্যের মন্ত্রী বিশ্বাস সারাঙ্গের অভিযোগ, কংগ্রেস সবসময় বিভাজনের রাজনীতি করে। হিন্দু ধর্মকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া সরকার যেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে গোটা দেশকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা করছে, তখন আদিবাসীদের জন্য আলাদা ধর্মবিধির দাবি, দেশকে বিভাজিত করার চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। রাজ্যের ওই মন্ত্রী বলছেন, বিরোধী দলনেতা যা বলেছেন, সেটা শুধু বেআইনি নয়, নিন্দনীয়।
