মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড হরিয়ানায়। পথের কাঁটা স্বামীকে সরাতে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে তাঁর মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে চালাতে দেহ রেখে আসা হয় রেল লাইনে। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে। ঘটনার প্রায় ২ মাস পর সন্দেহভাজন দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ ডিসেম্বর হরিয়ানা ফরিদাবাদে রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় এক অজ্ঞাতপরিচয় দেহ। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে হত্যা করা হয়েছে যুবককে। ভারী কোনও জিনিস দিয়ে সুমনের মাথা থেঁতলে খুন করা হয়। তারপরে সেই হত্যাকে দুর্ঘটনা বলে চালাতে দেহ ফেলে দেওয়া হয় রেললাইনে। খুনের ঘটনা বুঝতে পারলেও খুনের কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে ১৮ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন এক যুবক। অভিযোগ ছিল, হরিয়ানায় যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন তাঁর দাদা। সেই সূত্র ধরেই জানা যায়, রেল লাইনে উদ্ধার হওয়া মৃত যুবকের নাম সুমন ঝাঁ। পেশায় অটো রিকশা চালক ৩৬ বছরের এই যুবকের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায়। সুমনের ভাই পুলিশকে আরও জানান, ১৫ বছর আগে তাঁর দাদার বিয়ে হয়েছিল অঞ্জলি নামে এক মহিলার সঙ্গে। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। সম্প্রতি মহম্মদ রিয়াজুল নামে এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে অঞ্জলি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে হরিয়ানার ফরিদাবাদে চলে যান। গত বছরের নভেম্বর মাসে সুমনকে ফোন করে সেখানেই ডেকেছিলেন অঞ্জলি। এরপর থেকে আরও কোনও যোগাযোগ হয়নি সুমনের সঙ্গে।
তদন্তের সূত্র পেয়ে এরপর রিয়াজুল ও অঞ্জলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হরিয়ানার পুলিশ সুপার বরুন দহিয়া জানিয়েছেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় সুমনকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল রিয়াজুল ও অঞ্জলি। জেরায় নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে দুই অভিযুক্ত। এমনকী পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিত খুনকে রেল দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
