বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে, পর্যাপ্ত কারণ দেখানোর পরও প্যারোল পান না বহু বন্দি। তবে খুন-ধর্ষনের মতো গুরুতর অপরাধ সত্ত্বেও গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ব্যাপারই আলাদা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪০ দিনের ছুটির পর ৪ মাসের ব্যবধানে ফের ছুটি মঞ্জুর হল ডেরা সচ্চা সৌদার 'ধর্ষক বাবা'র। ২০২০ সালে জেলবন্দি হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ১৬ বার জেল থেকে ছুটি পেলেন তিনি।
৫৭ বছরের স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০০২ সালে ডেরার রাজ্য কমিটির সদস্য রণজিৎ সিংয়ের খুনের মামলায় নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। যদিও গত মে মাসে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট বেকসুর খালাস করেছে রাম রহিমকে। যদিও আশ্রমের ভিতরে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৭ সালে নিম্ন আদালতে ২০ বছরের সাজা খাটছেন ডেরা প্রধান। বর্তমানে হরিয়ানার রোহতকের সুনিয়া জেল রয়েছেন তিনি। তবে খাতায় কলমে জেলবন্দি থাকলেও সরকারের বাদান্যতায় জেলের বাইরেই বেশি সময় কাটছে এই ধর্ষক খুনির যা বিতর্কও কম হয়নি।
২০২০ সালে জেলবন্দি হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ১৬ বার জেল থেকে ছুটি পেলেন তিনি।
রিপোর্ট বলছে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে ২০ দিনের প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল রাম রহিমকে। এরপর এপ্রিলে ফের ২১ দিনের প্যারোল, আগস্ট মাসে ৪০ দিনের প্যারোলে ফের মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে। এখানেই শেষ নয়, হরিয়ানা, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচনের সময় দদায় দফায় প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এই অপরাধীকে। হিসেব বলছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ৩২৬ দিন প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফের ৪০ দিনের ছুটি পান এই অপরাধী। এরপর ফের ৩০ দিনের ছুটি মঞ্জুর হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল ৬.৩০ নাগাদ কড়া নিরাপত্তায় জেল থেকে বেরিয়ে সিরসায় নিজের ডেরার উদ্দেশে রওনা দেন।
এদিকে, ধর্মগুরুর ঘন ঘন প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বারবার নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের অভিযোগ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানে সিরসা এলাকায় রামরহিমের ডেরার প্রচুর সংখ্যক ভক্ত ওরফে ভোটব্যাঙ্ক থাকার জন্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলির থেকে সুবিধা পেয়ে থাকেন।
