shono
Advertisement
Khawaja Asif

'গ্রহণযোগ্য নয়', আব্রাহাম অ্যাকর্ডে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বিস্ফোরক পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী, এবার কি ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ দ্বন্দ্ব?

আব্রাহাম অ্যাকর্ডে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করলেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নাম এড়িয়ে যান ট্রাম্প। ফলে পাকিস্তানের প্রকৃত ক্ষমতা যে সেনার হাতে, সেই পুরনো বিতর্কও মাথাচাড়া দিয়েছে।
Published By: Kishore GhoshPosted: 02:52 PM May 26, 2026Updated: 03:38 PM May 26, 2026

আমন্ত্রণ জানিয়ে অপমান! ইরান যুদ্ধ শেষে মুসলিমপ্রধান দেশগুলিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি একেবারেই পছন্দ হয়নি পাকিস্তানের। এই অ্যাকর্ড যদি পাকিস্তান এবং ইরানের মতো দেশগুলি মেনে নেয়, তাহলে নিজের দেশেই জনরোষে পড়তে হবে। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের মন্তব্য, ট্রাম্পের প্রস্তাব পাকিস্তানের 'মৌলিক আদর্শ' বিরোধী। কেন একথা বলছেন তিনি?

Advertisement

পাকিস্তানের অস্বস্তির কারণ বুঝতে হলে আব্রাহাম অ্যাকর্ড কী জানতে হবে। আব্রাহাম অ্যাকর্ড হল আমেরিকার মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে শুরু হওয়া একাধিক চুক্তি, যার লক্ষ্য ইজরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। সমস্যা হল ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ ইজরায়েলকেও রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যা পাকিস্তানের নীতি বিরোধী। কারণ ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ প্যালেস্টাইনের সংগ্রাম এবং অস্তিত্বকে কার্যত অস্বীকার করা। মুসলিমপ্রধান দেশগুলি বরাবর থেকেছে প্যালেস্টাইনের পাশে। যুদ্ধের জেরে দীর্ঘদিনের অবস্থান বদলে ফেলা পাকিস্তানের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

বিষয়টি নিয়ে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাফ কথা, "ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আব্রাহাম অ্যাকার্ডে যোগ দেওয়া উচিত নয় আমেরিকার। কারণ সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের 'মৌলিক আদর্শ' বিরোধিতা করা হবে।" তিনি আরও বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইজরায়েলকে মেনে না নেওয়ার ব্যাপারে তার দেশের দীর্ঘদিনের অবস্থান রয়েছে। ৭৮ বছরের ইতিহাসে ইসলামাবাদ কখনও ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এই কারণেই পাকিস্তানি নাগরিকরা দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইজরায়েল ভ্রমণ করতে পারেন না।

অন্যদিকে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করলেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নাম এড়িয়ে যান ট্রাম্প। ফলে পাকিস্তানের প্রকৃত ক্ষমতা যে সেনার হাতে, সেই পুরনো বিতর্কও মাথাচাড়া দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশটির প্রশাসন যে আসলে সেনাবাহিনীর আঙুলে জড়ানো ‘পুতুল’ তা প্রকাশ্যে এসেছে গিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও অস্বস্তিতে পড়েছে ইসলামাবাদ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement