সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। মানুষ সত্যের পাশে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছে। কোনও সমাজকর্মী বা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য নয়। এই কথাগুলি বলছে খোদ মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। মহারাষ্ট্রের এক মামলায় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ এমনই।
২০১৭ সালের এক কংগ্রেস কাউন্সিলের হত্যা সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চে। আসলে ৮ বছর আগে ভিওয়ান্ডিতে কংগ্রেস কাউন্সিলরকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রশান্ত ভাস্কর মাত্রে জামিন চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেই মামলাতেই এই পর্যবেক্ষণ করেছে শীর্ষ আদালত।
এই মামলায় সাক্ষীদের একটি বিশাল তালিকা তৈরি করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। মোট ২০০ জন সাক্ষীর নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে অন্তত ৭৫ জনকে এজলাসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান রাজ্য সরকারের আইনজীবী। তাতেই সুপ্রিম কোর্ট বলছে, "এত মানুষের সাক্ষ্যের উপর কেন বেশি আস্থা রাখতে চাইছে রাজ্য? আজকাল সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। মানুষ সত্যের পাশে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছে।" শীর্ষ আদালত মেনে নিয়েছে, কেউ সাক্ষ্য দিলে গ্যাংস্টারদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার ভয় রয়েছে। আর আমাদের দেশে সাক্ষীদের রক্ষা করারও কোনও আইন নেই। তাই পরে অনেকে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকারও করে।
ভিওয়ান্ডির ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সাক্ষ্যদের নিরাপত্তার কথা বলতে গিয়ে সামাজিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে এনেছে। কিন্তু বর্তমান সমাজে শীর্ষ আদালতের বক্তব্য যে ভীষণ প্রাসঙ্গিক, সেটা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।
