পড়ুয়াদের বিক্ষোভের আঁচ পেয়েই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা (Dharmendra Pradhan Resignation) দিতে চেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। একবার নয়, দু'বার সরকারের কাছে ইস্তফা দিতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। অবশেষে শনিবার সরে দাঁড়িয়েছেন ধর্মেন্দ্র। সূত্রের খবর, গোড়ার দিকে না মানলেও পরে পরিস্থিতি বিচার করে অবস্থান পাল্টায় মোদি সরকার। কিন্তু কী এমন ঘটল যে সরকার সরে এল আগের অবস্থান থেকে?
নিটের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পরই ধর্মেন্দ্র সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, এমনটাই সূত্রের খবর। ততদিনে যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের প্রতিবাদ শুরু হয়ে গিয়েছে, অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। ইস্তফা দিতে চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানান ধর্মেন্দ্র, কিন্তু সেটা মঞ্জুর হয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং একাধিক ইস্যু নিয়ে ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে নামে ককরোচ জনতা পার্টি এবং অন্যান্য পড়ুয়ারা। সেই অভিযানের পরই উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানেও ধর্মেন্দ্র ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। আবারও খারিজ হয় সেই দাবি। কেন? কারণ মোদি সরকার মনে করে ইস্তফা দেওয়া মানে সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়া। তাই ইস্তফা না দিয়ে মন্ত্রীর উচিত পদে থেকে সমস্যার সমাধান করা।
কিন্তু ৬ দিনের মধ্যে কী এমন ঘটল যে এই অবস্থান থেকে সরে এল কেন্দ্র? নেপথ্যে রয়েছে ককরোচদের সঙ্গে বৈঠক। গত শুক্রবার 'ককরোচ' প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং। সেখানে প্রতিবাদীরা জানিয়ে দেন ধর্মেন্দ্র ইস্তফা না দিলে আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আবারও সংসদ ভবন অভিযানের মতো বড়মাপের পদক্ষেপও করা হবে। এই কথা শুনেই সরকার চিন্তাভাবনা শুরু করে। গোয়েন্দা রিপোর্টেও বলা হয়, পড়ুয়াদের বিক্ষোভকে কাজে লাগানোর ছক কষছে ভারতবিরোধী শক্তিগুলি।
তারপরই মোদি সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, দেশে শান্তি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। তাই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ বন্ধ করতে হবে। সেকারণেই 'ককরোচ'দের সঙ্গে বৈঠকের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা গৃহীত হবে। সোশাল মিডিয়ায় ধর্মেন্দ্র জানান, দেশের কথা ভেবেই সরে দাঁড়িয়েছেন পদ থেকে। পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নেন।
