কংগ্রেস কি আরও একবার বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার মুখে? বেশ কিছুদিন ধরেই দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংয়ের (Digvijaya Singh) গতিবিধি নিয়ে দলের অন্দরে গুঞ্জন চলছিল। অনেকেই মনে করছিলেন, দিগ্বিজয় হয়তো এবার বিদ্রোহীদের দলে নাম লেখাবেন। সেই জল্পনা নিজেই বাড়িয়ে দিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তিনি জানিয়ে দিলেন, রাজ্যসভার সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হলে আর তিনি সংসদের উচ্চকক্ষে যেতে চান না। ওই আসন তিনি খালি করে দিতে চান।
মঙ্গলবার বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সোশাল মিডিয়ায় জানিয়ে দেন, "আমি রাজ্যসভার আসন ফাঁকা করছি। তৃতীয়বারের জন্য আর রাজ্যসভায় যেতে চাই না।" কিছুদিন আগেই তিনি আরএসএসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি বলেন, একজন সাধারণ কর্মী থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া, যেটা নরেন্দ্র মোদি করেছেন, সেটা আরএসএসের মতো সংগঠনেই সম্ভব। কংগ্রেসের শেখা উচিত আরএসএসের সংগঠনের থেকে। সেই মন্তব্যের পরই বর্ষীয়ান নেতার এই রাজ্যসভা ছাড়ার ঘোষণা রীতিমতো কৌতুহল এবং জল্পনার উদ্রেক করেছে মধ্যপ্রদেশে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন?
যদিও দিগ্বিজয় ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। 'রাজাজি' দু'বার রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন। এবার তরুণদের সুযোগ দিতে চান। তাছাড়া এবার তাঁর পরিকল্পনা রয়েছে মধ্যপ্রদেশে পড়ে থেকে স্থানীয় রাজনীতি করার। যদিও কংগ্রেস সূত্র বলছে, দিগ্বিজয় ইদানিং মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে বড্ড কোণঠাসা। গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর মধ্যপ্রদেশে নেতৃত্ব বদলে তরুণ মুখেদের তুলে এনেছেন রাহুল গান্ধী। আর সেই তরুণদের ভিড়ে দিশেহারা দিগ্বিজয় সম্ভবত বুঝতেই পারছিলেন দল তাঁকে আর সংসদের উচ্চ কক্ষে পাঠাবে না। সেকারণেই আগেভাগে নিজের 'অবসর' ঘোষণা করে দিলেন।
শোনা যাচ্ছে, দিগ্বিজয়ের জায়গায় এবার তরুণ কোনও দলিত বা ওবিসি মুখকে রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে প্রদেশ সভাপতি জিতু পাটওয়ারির সম্ভাবনা উজ্বল। আবার পুরনো নেতাদের মধ্যে কমল নাথ, অরুণ যাদবদেরও রাজ্যসভা যাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে।
