বিধানসভা ভোটের মুখে আচমকাই বাংলার রাজ্যপালের (West Bengal Governor) পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। তাঁর জায়গায় নতুন রাজ্যপালের নামও তড়িঘড়ি ঘোষণা করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্যপাল আরএন রবি বাংলার সাংবিধানিক প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। আর তা নিয়ে বঙ্গবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা প্রকাশ করলেন তামিলনাডুর শাসকদল ডিএমকে। প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তা আরএন রবিকে নিয়ে এক্স হ্যান্ডল পোস্টে ডিএমকে-র রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসনের খোঁচা, 'যেখানেই যান সংবিধান, গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ক্ষতি করেন। বাংলার তৃণমূল সমর্থক 'বন্ধু'দের জন্য আমার খারাপ লাগছে!'
প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তা আরএন রবিকে নিয়ে এক্স হ্যান্ডল পোস্টে ডিএমকে-র রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসনের খোঁচা, 'যেখানেই যান সংবিধান, গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ক্ষতি করেন। বাংলার তৃণমূল সমর্থক 'বন্ধু'দের জন্য আমার খারাপ লাগছে!'
আসলে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে গত চার বছর ধরে আরএন রবির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো নয় সে রাজ্যের শাসকদল ডিএমকের। বারবার একাধিক ইস্যুতে তাঁর সঙ্গে ডিএমকে সংঘাতে জড়িয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সঙ্গীত, বিধানসভা অধিবেশনে ভাষণ-সহ নানা বিষয়েও মতানৈক্য প্রকট হয়েছে। আর তা এতটাই যে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন রীতি মেনে স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যপালের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চা-চক্র বয়কট করেছেন।
আরএন রবির কেরিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি একদা সিবিআই ও আইবি-র দুঁদে গোয়েন্দা কর্তা ছিলেন। আইপিএস অফিসার হিসাবে অবসর নেওয়ার পর, ২০১৯ সালে তাঁকে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই রাজ্যের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার মাঝে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মেঘালয়ের অতিরিক্ত রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হন। বর্তমানে তিনি সেই পদেই রয়েছেন। রবির কেরিয়ারগ্রাফে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, ২০১৫ সালে ভারত সরকার ও ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড (NSCN-IM)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় নাগা ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট। আরএন রবিকে সেই চুক্তির কাণ্ডারি বলে মনে করা হয়। একসময়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি সেনাকে ব্যবহার করে বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে দিতে চাইছেন সঙ্গে এনএসসিএন-আইএমের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীগুলিকে মদত দিচ্ছেন।
এসব বিতর্ক এড়িয়ে অবশ্য রবি ২০২১ সালে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের পদে বসেন। এবার বাংলাতেও তিনি সাংবিধানিক প্রধান হওয়ায় ডিএমকে সাংসদ ওই খোঁচা দিলেন। পি উইলসনের কথায়, 'খারাপ লাগছে যে, আসন্ন নির্বাচনে ডিএমকে এক জন তারকা প্রচারক (রবি)-কে হারাল। উনি যেখানেই যান, সেখানেই সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়।পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং তৃণমূলে থাকা ভালো বন্ধুদের জন্য আমার খারাপ লাগছে।”
