ঋণের গেরোয় মৃত্যুফাঁস গলায় পরতে থাকা কৃষকদের জন্য অবশেষে পদক্ষেপ মহারাষ্ট্র (Maharashtra) সরকারের। রাজ্য বাজেটে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মুকুব করল দেবেন্দ্র ফড়ণবিসের সরকার। জানানো হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত যে সব কৃষকরা ঋণ নিয়েছেন তাঁদের ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মুকুব করা হবে। শুধু তাই নয়, যে সব কৃষকরা ঋণের অর্থ নিয়মিতভাবে দিয়ে এসেছেন তাঁদের ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত ইনসেনটিভ দেবে সরকার।
শুক্রবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। সেখানেই রাজ্যের কৃষকদের উদ্দেশে বিরাট ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। ঋণগ্রস্ত কৃষকদের ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত যাদের কৃষিঋণ বকেয়া রয়েছে তাঁদের ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মুকুব করা হবে। পাশাপাশি যে কৃষকরা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন তাঁদেরকেও ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে সরকারের তরফে।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত যাদের কৃষিঋণ বকেয়া রয়েছে তাঁদের ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মুকুব করা হবে। পাশাপাশি যে কৃষকরা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন তাঁদেরকেও ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে সরকারের তরফে।
শুধু তাই নয়, বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ধাঁচে মহারাষ্ট্রেও চালু রয়েছে 'মুখ্যমন্ত্রী লড়কি বহেন যোজনা'। সেই প্রকল্প জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যসরকারের লক্ষ্য মহারাষ্ট্রকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ফড়ণবিস বলেন, ২০২৬ সালকে আন্তর্জাতিক মহিলা কৃষক বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই উপলক্ষে মহিলা কৃষকদের হাঁস-মুরগি, ছাগল পালনে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কৃষক আত্মহত্যার নিরিখে সর্বদাই শিরোনামে থাকে বিজেপি শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্র। গত বছর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে দেশে ১০,৭৮৬ জন আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছে মহারাষ্ট্রে। ৪,১৫১ জন আত্মহত্যা করেছেন এখানে। যা দেশের মোট আত্মহত্যার ৩৮ শতাংশেরও বেশি। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কৃষকদের দুর্দশার অন্যতম কারণ তুলো কিংবা আখের মতো অর্থকরী ফসলের উপর নির্ভরশীলতা। কারণ, এই ধরনের ফসল চাষের জন্য প্রথমেই মোটা অঙ্কের বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। ফলে এলাকার মহাজনদের উপর নির্ভর করতে হয় কৃষকদের। মাথায় চাপে ঋণের বোঝা, সঙ্গে চড়া সুদের হার। এত করেও শেষমেশ ফলন আশানুরূপ না হলে প্রায়শই চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হন কৃষকেরা। কৃষি ঋণ মুকুবে সেই পরিস্থিতিতে বদল আসবে কিনা সেটাই দেখার।
