চিন হোক বা পাকিস্তান, যুদ্ধ শুরু হলে অস্ত্রের অভাব হবে না সেনাবাহিনীর। দেশের অস্ত্র ভাণ্ডারে জোয়ার আনতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানালেন, উৎপাদন বাড়াতে ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবার তুলে দেওয়া হবে দেশীয় সংস্থাগুলির হাতে। এই প্রযুক্তি হস্তান্তর (Transfer of Technology) 'আত্মনির্ভর ভারতে'র লক্ষ্যপূরণে এক বড় উদ্যোগ বলে দাবি করেছেন কেন্দ্র।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ভারতীয় সংস্থাগুলি এখন থেকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উৎপাদনের চাহিদা যেভাবে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলেছে তা পূরণ হবে এই উদ্যোগের জেরে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রক এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র সেই সমস্ত দেশীয় সংস্থাগুলিকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হবে যারা যোগ্য। এর জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং নিয়ন্ত্রক শর্ত মানতে হবে সংস্থাগুলিকে।
শুধুমাত্র সেই সমস্ত দেশীয় সংস্থাগুলিকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হবে যারা যোগ্য। এর জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং নিয়ন্ত্রক শর্ত মানতে হবে সংস্থাগুলিকে।
দেশীয় প্রযুক্তিতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে ভারত। ডিআরডিও হাইপারসনিক গ্লাইড এবং ক্রুজ মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ১৫ আগস্ট লালকেল্লায় ভাষণ দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, গত ১২ বছরে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৪গুণ বেড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টেও উঠে এসেছে সেই তথ্য।
কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১৫.৬ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২০-২১ অর্থবর্ষের ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকা থেকে ১১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩-১৪ সালের তুলনায় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চার গুণ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা রপ্তানি পৌঁছে গিয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি করে ভারত। কেন্দ্রের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে এটা ৫০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্য পুরনেই এবার বড় উদ্যোগ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের।
