পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি নীতিতে। কেন্দ্র সরকার এবার দেশের জ্বালানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়’ হিসাবে ঘোষণা করেছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধের ফলে তেলের পাশাপাশি এলপিজি সরবরাহেও বড় ধাক্কা লেগেছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র নির্দেশ দিয়েছে, দেশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত সব সংস্থাকে এখন থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য দিতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ ও আমদানির তথ্য সরাসরি সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি লুকাতে জ্বালানি তথ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় আনছে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, জরুরি পরিস্থিতিতে সরকার যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। ভারত সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকেই অধিকাংশ রান্নার গ্যাস আমদানি করে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে বিকল্প হিসাবে আমেরিকা-সহ অন্য দেশ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
কেন্দ্র নির্দেশ দিয়েছে, দেশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত সব সংস্থাকে এখন থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য দিতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ ও আমদানির তথ্য সরাসরি সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।
এদিকে শুক্রবার বিভিন্ন মন্ত্রকের সম্মিলিত সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, প্যানিক বুকিং কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও ‘চিন্তাজনক’ পর্যায়েই রয়েছে। প্রতিদিন দেশে প্রায় ৫৫ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা তৈরি হচ্ছে এবং আমদানির উপর নির্ভরতার কারণে সংকট দ্রুত সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অনেক গ্রাহক একাধিক সিলিন্ডার আগাম বুক করায় সাময়িকভাবে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে এবং মানুষকে অযথা মজুত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, প্রায় ৭,৫০০ গ্রাহক ইতিমধ্যেই পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস মোডে চলে গিয়েছেন, যাতে এলপিজির উপর চাপ কমানো যায়। পাশাপাশি আমদানি বাড়ানো, বিকল্প উৎস খোঁজা এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কিছু শহরে গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ লাইনের ঘটনাও দেখা গিয়েছে, যদিও অনলাইন বুকিং স্বাভাবিক হওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কিছুটা স্বস্তির দিকে যাচ্ছে।
