দুর্যোগের শেষ নেই। একে চলছে ঝড়-শিলাবৃষ্টি, ভারী তুষারপাত। তার উপর দোসর হয়েছে ভূমিকম্প। শুক্রবার ভোরে সিকিমের গ্যাংটকের কাছে মৃদু ভূমিকম্প হয়। ফের ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্ক, দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে সিকিমের বহু এলাকায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৯। কম্পনটি গ্যাংটক থেকে ১০.৭ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে অনুভূত হয়। ভোর ৪:২৬ মিনিটের গ্যাংটকের মাটি কেপে ওঠে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেও ভারী তুষারপাত হয়েছে পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু উপত্যকা এবং চিন সীমান্ত সংলগ্ন নাথু-লায়।
বুধবার রাতে ভারী তুষারপাতের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে গ্যাংটক থেকে ছাঙ্গুগামী জওহরলাল নেহেরু রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবারও ওই রুটে পর্যটকদের ভ্রমণের পাস ইস্যু বন্ধ ছিল। এদিন সকাল থেকে সিকিম প্রশাসন সড়ক ঢেকে রাখা বরফের আস্তরণ সরানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য বারবার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফের তুষারপাত হয়েছে। 'ব্ল্যাক আইস' দেখা দেওয়ায় সড়কপথ আরও বিপজ্জনক হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাঙ্গু উপত্যকার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। সেখানে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও খারাপ পরিস্থিতি নাথু-লা পাসের। সেখানে তাপমাত্রা নেমেছে মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। নাথু-লাতেও তুষারপাত চলছে। সেখানে ঝড়, শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। এদিকে উত্তরের দার্জিলিং পাহাড়েও দুর্যোগ অব্যাহত। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, "শুক্রবার রাতে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি জেলায় বজ্র-বিদ্যুৎ সহ ঝড়-শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল।"
